মৃ’ত্যুর আগে পল্লবীর হাতে মিঠিকে সঁপে দিলেন সাগরের মা, পল্লবীর মাতৃত্বের পথে কি বাধা হবে সুপর্ণা?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দিল্লি রোডের সেই ভয়ানক গাড়ি দুর্ঘটনা যেন মুহূর্তের মধ্যে সবার জীবন বদলে দিল। ঘটনাক্রমে সেখানে আদিত্য ও তার বাবাও ছিল। আদিত্যর গাড়ির সাথে সাগরের গাড়ির ধাক্কা লাগায় আদিত্যর মনে হতে থাকে যে, তার জন্যই হয়তো সাগরের এই অবস্থা। নিজের বাবার বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আদিত্য মন থেকে স্থির করে যে সে সাগরকে বাঁচাবেই। সেই অপরাধবোধ আর মানবিকতা থেকেই সে দ্রুত সাগরকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছোটে।

অন্যদিকে পল্লবীদের বাড়িতে তখন বিয়ের আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ। পারিবারিক নিয়ম মেনে সবাই মা কালীর পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সাগর বা তার বাড়ির লোকের দেখা না মেলায় পল্লবীর পরিবার খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। ঠিক সেই সময়েই খবর আসে যে সাগরের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। আনন্দের বাড়ি মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পল্লবীরা পাগলের মতো হাসপাতালের দিকে ছুটে যায়।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সাগরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রচুর রক্তক্ষরণে সে তখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। কোনো দোষ না থাকলেও মানুষের লোভ আর নিষ্ঠুরতার বলি হতে হলো তাকে। পর্দার ওপর সাগরের সেই ছটফটানি আর বাঁচার শেষ চেষ্টা দেখে দর্শকদের বুক ফেটে যায়। একজন মুমূর্ষু মানুষের যন্ত্রণা অভিনেতা এতটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

বিয়ের দিনই বরের মৃত্যু পল্লবীর জীবনে এর চেয়ে বড় শোক আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু মানুষের নিষ্ঠুরতা সেখানেও থেমে থাকেনি। সুপর্ণার বর সুকৌশলে সব দোষ পল্লবীর ওপর চাপিয়ে দেয় এবং এটাকে ‘কুষ্ঠির দোষ’ বলে প্রচার করে। এমনকি পাড়া-পড়শিরাও এই নিয়ে আড়ালে সমালোচনা শুরু করে। নিজের শোক সামলানোর আগেই সমাজ যেভাবে একটা মেয়ের দিকে আঙুল তুলল, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আরও পড়ুনঃ ‘খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো ঢেকে রাখি…’ হঠাৎ এমন কথা কেন বললেন অনিন্দিতা? হাসপাতাল থেকে ফিরেই কি নতুন সংকটে সুদীপ সরকার? অভিনেত্রীর পোস্টে কিসের ইঙ্গিত?

এই কঠিন সময়ে আদিত্যর ভালো মানুষিটা সবার নজর কেড়েছে। সে তার বাবার ষড়যন্ত্র বা বারণ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে হাসপাতালে নিজের রক্ত দিয়ে মিঠিকে বাঁচিয়ে তোলে। অন্যদিকে, সাগরের মা মারা যাওয়ার আগে ছোট্ট মিঠিকে পল্লবীর হাতে সঁপে দিয়ে যান। পল্লবীও কথা দেয় সে মিঠিকে নিজের মেয়ের মতো বড় করবে। এখন দেখার বিষয়, সুপর্ণা আর তার স্বামী পল্লবীর এই পথে কতটুকু বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং আদিত্যর রক্ত দেওয়া মিঠিকে নিয়ে গল্প কোন দিকে মোড় নেয়।

Back to top button