জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সায়ন্তনের নতুন চাল! ডাকপিয়নের চিঠিতে কোন গোপন জিনিস পাঠালো খেয়ার কাছে? ভয়েতে কেঁপে উঠলো উজি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, উজি আর নিজের মনের সন্দেহ চেপে রাখতে পারল না সে খেয়াকে সায়ন্তনের আসল উদ্দেশ্যের কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়। এতদিন ধরে সায়ন্তনকে নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, উজির এই খোলসা করার পর সেই রহস্যের মেঘ কাটতে শুরু করেছে। কিন্তু গল্পের আসল খলনায়ক দুর্জয় ঘোষাল সায়ন্তনকে সরাসরি নিজের মনের চরম আক্রোশের কথা জানিয়ে দিয়েছে তার একমাত্র লক্ষ্য হলো ওদের পরিবারকে টেনে-হিঁচড়ে পথে বসানো। দুর্জয়ের এই একটা কথাতেই স্পষ্ট যে, এদের নোংরা পরিকল্পনার নিশানায় শুধু কোনো একজন ব্যক্তি নয়, বরং পুরো ব্যানার্জি পরিবারকে ধ্বংস করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। আগামী দিনে ব্যানার্জি পরিবারের জন্য যে আরও বড় এবং ভয়ঙ্কর বিপদ অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, উজি আর খেয়া কি সঠিক সময়ে সবাইকে সত্যিটা বুঝিয়ে এই বিপদ থেকে বাঁচাতে পারবে, নাকি দুর্জয় ও সায়ন্তনের নতুন চক্রান্তই সফল হবে?
আচমকাই শুভেন্দু বাবু নিশাকে তাঁর আসল ব্যবসার কথা জানিয়ে দেন, যা শুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। তিনি জানান যে তাঁর আসল ব্যবসা আসলে একটি বিশাল বড় স্ক্যামিং নেটওয়ার্ক, যা কি না পুরো এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু এই গোপন সত্যিটা ফাঁস করাই নয়, তিনি নিশাকে এই অবৈধ ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বড়সড় অফারও দিয়ে বসেন। তবে নিশাও কিন্তু মোটেও সাধারণ কেউ নয়, তার মাথায় কী চলছে তা বোঝা মুশকিল। এখন প্রশ্ন হলো, নিশা যদি এই অফারটা গ্রহণ করেও নেয়, তাহলে তার নিজের আসল প্ল্যান বা চালটা ঠিক কী হতে চলেছে?
এদিকে এত কষ্ট আর নিখুঁত পরিকল্পনা করে উজি অবশেষে সায়ন্তনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছিল। মনে হয়েছিল এবার হয়তো সত্যিই একটা বড় পরিবর্তন আসবে এবং অপরাধী তার শাস্তি পাবে। কিন্তু দর্শকদের মন ভেঙে দিয়ে পরের দিনই জামিন পেয়ে যায় সায়ন্তন। একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে উজির জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগে; তার ছোট ছোট সাফল্যগুলো এইভাবেই বারবার প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষমতার দাপটে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
তবে গল্পের টুইস্ট এখানেই শেষ নয়। আগামী পর্বে দেখা যাবে, সায়ন্তন জামিন পেয়েই ডাকপিয়নের মাধ্যমে খেয়ার কাছে একটি চিঠি পাঠায়। আর খেয়া এতটাই সরল যে, সেটাকে সায়ন্তনের পাঠানো প্রেমপত্র ভেবে খুশিতে ডগমগ হয়ে সোজা নিজের ঘরে চলে যায়। উজি যখন সতর্ক করার জন্য চিঠিটা দেখতে চায়, তখন খেয়া উল্টে উজিকেই ঘর থেকে বের করে দেয়! এটা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, সায়ন্তনের প্রতি খেয়ার অন্ধ বিশ্বাস এখনও একটুও কমেনি। এখন আসল প্রশ্ন হচ্ছে, ওই চিঠিতে সায়ন্তন ঠিক কী লিখে পাঠিয়েছে? আর জেল থেকে বেরিয়েই বা সে এবার কী নতুন চাল চালতে চলেছে?
আরও পড়ুনঃ সংযুক্তা-শিঞ্জিনীর ভয়ঙ্কর রূপ ফাঁস! অহংকার ভুলে পারুলের পায়ে পড়লো শিরিন! শত্রুর হাত ধরে কি বাবাকে বাঁচাতে পারবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
একটা বিষয়ের জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই খেয়া কবে নিজের ভুলটা বুঝতে পারবে? এত কাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরও, এমনকি সায়ন্তন গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও খেয়া চরিত্রটার মধ্যে এখনও তেমন কোনো পরিবর্তন বা শুভবুদ্ধির উদয় দেখা যাচ্ছে না। আশা করা যায়, আগামী দিনে গল্পের লেখকেরা এই দিকটা নিয়ে বড় কোনো মোড় আনবেন এবং খেয়ার এই অন্ধ বিশ্বাসের দেওয়াল ভেঙে সত্যিটা তার সামনে আসবে।

