সায়ন্তনের খেলা শেষ! উজির হাতের মুঠোয় দুই শ’য়তান! এক চালে ফাঁস হবে দুর্জয় ঘোষালের আসল রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় এবং চর্চিত ধারাবাহিক হলো ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, হাসপাতালের টানটান উত্তেজনার সমান্তরালে, উজি আর জিৎ দিনরাত এক করে পর্দার পেছনের আসল অপরাধীকে ধরার জন্য একের পর এক প্রমাণ জোগাড় করে চলেছে। এরই মাঝে উজি ডার্ক ওয়েব ঘেঁটে জানতে পারে এক হাড়হিম করা তথ্য তাকে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের সুপারি দেওয়া হয়েছে! তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একটা চক্রান্তের কথা জানার পরও উজির মনে একবারের জন্যও সায়ন্তনের প্রতি সন্দেহ জাগছে না। এই রহস্যটা কিন্তু দর্শকদের মনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে, যা কাহিনীর আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গল্পের মোড় ঘোরানো আরেকটি বড় ঘটনা ঘটে যখন ঈষিকার কথা অনুযায়ী খেয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সই করানোর জন্য ঋষির কাছে নিয়ে যায়। ঋষি যখনই কলম দিয়ে সই করতে যাবে, ঠিক তখনই জানালার বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে একটি রহস্যময় চিঠি ছুঁড়ে দেয় উজি। সেই কাগজ হাতে পাওয়া মাত্রই ঋষি সই করা থামিয়ে দেয় এবং পুরোপুরি থমকে যায়। খেয়া আর সায়ন্তন এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় হকচকিয়ে গেলেও চিঠিটা কে পাঠাল তা বুঝতে পারে না। এরপরই উজিকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায় যে, সে অবশেষে আসল প্রমাণ পেয়ে গেছে এবং এবার সে সম্পূর্ণ অন্যভাবে নিজের নতুন খেলা শুরু করতে চলেছে।

এরই মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা দর্শকদের মনে নানা খটকা তৈরি করেছে। যেমন, ঋষি উজির হাতের লেখা মিলিয়ে দেখার জন্য ডায়েরি আর চিঠি কেন বাড়িতে না দেখে লুকিয়ে অফিসে নিয়ে গেল? আর ঠিক তখনই সায়ন্তন সেখানে এসে সব দেখে ফেলল, যা সায়ন্তনের মনে সন্দেহ আরও উস্কে দিল। অন্যদিকে, নিশা অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে উজি সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হতে পারল যে ওটা নিশারই ফোন। অথচ ঠিক একই পরিস্থিতিতে যদি জিৎ ফোন করত, তবে কিন্তু উজির মনে সন্দেহ আসত। আবার ঋষির ঘরে সায়ন্তন ও খেয়া থাকা সত্ত্বেও উজি যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে জানালার বাইরে থেকে চিরকুট ছুঁড়ে দিল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

আগামী পর্বে দেখা যাচ্ছে গল্পের সবচেয়ে বড় চমক। উজি এবার সরাসরি সায়ন্তনকে আটকে রেখে জানিয়ে দেয় যে, এবার তার পলিগ্রাফ টেস্ট করানো হবে! শুধু তাই নয়, দুর্জয় ঘোষালের সঙ্গে সায়ন্তনের আসল সম্পর্কটা ঠিক কী, সেটাও খুঁটিয়ে বের করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেয় উজি। এতদিন পর্যন্ত সায়ন্তন নিজেকে যতই শান্ত আর ধীরস্থির দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, উজির মুখে পলিগ্রাফ টেস্টের কথা শুনে এবার তার মুখের ভাব পুরোপুরি বদলে যায় এবং তাকে স্পষ্ট চিন্তিত দেখায়।

আরও পড়ুনঃ জীবন-ম’রণের সন্ধিক্ষণে পারুল! শিরিনের ফাঁদে পারুলের আপনজন! একদিকে জন্মদাতা, অন্যদিকে পালিত বাবা-মা! কার জীবন বাঁচাবে পারুল?

সব মিলিয়ে, এই পর্বটি গল্পের মোড় ঘোরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। এতদিন ধরে চলে আসা দর্শকদের মনে জমে থাকা সব সন্দেহের উত্তর কি এবার পলিগ্রাফ টেস্টের মাধ্যমে সামনে আসবে? নাকি চতুর সায়ন্তন আবার নতুন কোনো চাল খেলে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে? উজির আত্মবিশ্বাস আর সায়ন্তনের এই নতুন আতঙ্ক আগামী পর্বগুলোকে যে দারুণ রোমাঞ্চকর করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Back to top button