দু’বার বিয়ে করেও নিঃসন্তান! সন্তানের জন্য ফেলেছেন চোখের জল! জেনে নিন ইন্দ্রানী হালদারের অজানা কাহিনী!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ( Bengali film Industry ) জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার ( Indrani Haldar )। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে চিরঞ্জিত, তাপস পাল থেকে শুরু করে রঞ্জিত মল্লিক বড়পর্দার এই সকল অভিনেতাদের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন ইন্দ্রানী। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও তার অভিনয় দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। কিন্তু কর্মজীবনে অত্যন্ত সফল এই অভিনেত্রী ব্যক্তিগত জীবনে সুখের হদিশ খুঁজে পাননি। বাংলা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি তাকে মামণি নামেই চেনে।

১৯৭১ সালের ৬ জানুয়ারি কলকাতাতে অভিনেত্রীর জন্ম হয়। অভিনেত্রীর বাবা সঞ্জয় হালদার‌ও টলিউডের সাথেই যুক্ত ছিলেন। মাল্টিপারপোস গার্লস হাই স্কুলে প্রাথমিক লেখাপড়া সমাপ্ত করে পরবর্তীতে যোগময়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন ইন্দ্রানী। ছোটবেলা থেকেই নাচ আর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল অভিনেত্রীর সেই কারণে নাচ শিখতে শুরু‌ করেন তিনি। তবে ছোট থেকেই সুন্দরী ইন্দ্রানী হালদার অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও তার মা রাজি হতেন না, তিনি চাইতেন মেয়ে আগে লেখাপড়া শেষ করুক, তারপর অভিনয় করবে।

১৯৮৬ সালে ডিডি বাংলার তেরো পার্বণ ধারাবাহিকের মধ্য দিয়ে প্রথম রূপোলি পর্দায় পা রাখেন অভিনেত্রী। এরপর বড়পর্দায় তার অভিনীত প্রথম ছবি হল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত মন্দিরা। এরপর সেই বছর‌ই দেবতা ও আবিষ্কার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এই ছবিগুলোর দৌলতে জনপ্রিয়তাও পেয়ে যান অভিনেত্রী। তারপর দেবর ,দান প্রতিদান, শ্বেত পাথরের থালা, বিয়ের ফুল, চৌধুরী পরিবার ইত্যাদি একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে তার কাছে।

বড় পর্দার সাথে সাথে যেমন ছোট পর্দায় কাজ করেছেন, তেমনি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন ইন্দ্রানী হালদার। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অভিনেতা সঞ্জীব দাশগুপ্তের সাথে বহুদিন লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন অভিনেত্রী। এই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালে প্রযোজক অমরেন্দ্র ঘোষকে বিয়ে করেন ইন্দ্রানী হালদার তবে তার প্রথম সেই বিয়ে সুখের হয়নি। ইন্দ্রানীর অভিনয় আপত্তি করতেন তিনি, এই নিয়ে নিত্য অশান্তি হত তাদের সংসারে।

এই কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। প্রথম বিয়ে ভাঙার অনেক বছর পর ইন্দ্রানী বিয়ে করেন ভাস্কর রায়কে। ভাস্কর পেশায় একজন বিমান চালক ছিলেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী একবার জানিয়েছিলেন তাদের এই বিয়ের ঘটক নাকি অভিনেতা তাপস পাল! ভাস্করের সাথে ইন্দ্রাণীর দ্বিতীয় এই বিয়ে সুখের হলেও সন্তান হয় নি তাদের। নিঃসন্তান হয়েই রয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী। একবার একটি সাক্ষাৎকারে কেন নিঃসন্তান রয়েছেন তিনি তার কারণ জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জানেন ‘রাঙামতী তীরন্দাজ’ ধারাবাহিকের নয়িকা আসলে কে? জেনে নিন অভিনেত্রীর আসল পরিচয়!

একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, অভিনয় করতে করতে তার জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। সংসারকে সময় দিতে পারেন নি তিনি। এরপর যখন তিনি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন তখন তার বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে, তাই আর বেশি চেষ্টা করেন নি। তবে অভিনেত্রী বলেছিলেন, তার ইচ্ছে ছিল একটি সন্তান দত্তক নেওয়ার, কিন্তু তার স্বামী এক্ষেত্রে রাজি হন নি।- কর্মজীবনে চূড়ান্ত সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনের তার এই না পাওয়ার দিকটি কাজের মধ্যে দিয়েই ভুলে থাকার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী।

Back to top button