‘ছিঃ! একটা চার বছরের বাচ্চা বলছে মাকে হতেই হবে সুন্দরী!’ ‘কি শিখছে সমাজ?’ মা মানেই সুন্দর, মা মানেই স্নেহ-ভালোবাসা! সব অনুভূতির গলা টি’পে সুন্দরী মেয়েদেরকেই শ্রেষ্ঠত্বের তকমা! অসুন্দর হলে ‘মা’ হওয়া যায় না? এমন নীচ ধারণাকে ধিক্কার জানাচ্ছে দর্শক মহল!

স্টার জলসার (Star Jalsha) পর্দায় সম্প্রতি শুরু হওয়া নতুন ধারাবাহিক ‘বাবলি সুন্দরী’ (Babli Sundori) ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা তৈরি করতে পেরেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর গল্প দর্শকদের মনে একটু একটু করে জায়গা করে নিচ্ছিল। তবে ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক কিছু ট্র্যাক বা মোড় দর্শকদের মনে নতুন করে নানা প্রশ্ন এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে নেটপাড়ায় বেশ চর্চাও চলছে।
গল্পের বর্তমান ট্র্যাকে দেখা যাচ্ছে, বিনয় এবং বাবলির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাবলি তথাকথিত ‘অসুন্দর’ বা কালো হওয়ায় বিনয় কিংবা তার বাড়ির কেউই তাকে মেনে নিতে পারছে না, এমনকি তার মুখ পর্যন্ত দেখতে চাইছে না। এর ওপর আবার ঘরের কাজের মেয়ে আচমকা বাড়ির বউ হয়ে আসায় পুরো পরিস্থিতির জটিলতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বাড়ির পরিবেশ বেশ থমথমে হয়ে উঠেছে।
এরই মাঝে বিনয়ের চার বছরের ছোট বাচ্চাটির জন্য একজন মায়ের খুব প্রয়োজন ছিল। সে সারাক্ষণ মায়ের অভাব বোধ করত এবং বাবলি নিজের সবটুকু দিয়ে সেই ছোট্ট বাচ্চার মায়ের অভাব পূরণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু দর্শকদের সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে তখন, যখন সেই চার বছরের নিষ্পাপ বাচ্চার মুখেও বাবলির রূপ নিয়ে কটাক্ষ শোনা গেছে। দর্শকদের একাংশের দাবি, এত ছোট একটা বাচ্চার মনে সুন্দর-অসুন্দরের এই ভেদাভেদ দেখানো একেবারেই অনুচিত হয়েছে।
বাচ্চার মন জয় করতে এবং তাকে খুশি রাখতে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকে বাবলির এক রূপবদল বা ‘মেকওভার’ দেখানো হলো। বাবলির সেই চেনা সাধারণ বা ‘অসুন্দর’ রূপ ঝেড়ে ফেলে তাকে নতুনভাবে, খোলস বদলে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হলো। আর এই বিষয়টিই দর্শকদের মনে সবচেয়ে বড় আঘাত দিয়েছে এবং তারা এই নতুন ট্র্যাক দেখে বেশ বিরক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘মিঠুন চক্রবর্তী আমায় অনুরোধ করেছিলেন, তাই…’ তবে কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন অভিনেত্রী? দলবদলের পর বি’স্ফোরক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
দর্শকদের আক্ষেপ, দিনের শেষে ঘুরেফিরে সেই বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যই জিতে গেল, কিন্তু বাবলির ভেতরের ভালোবাসা বা মাতৃত্বের কোনো জয় হলো না। ধারাবাহিকের গল্প সেই চেনা গণ্ডিতেই আটকে রইল, যা সমাজের কাছে আরও একবার ভুল বার্তা পৌঁছে দিল। মানুষের ভেতরের গুণের চেয়ে যে বাইরের রূপটাই আজও আসল, ধারাবাহিকের এই ট্র্যাক যেন পরোক্ষভাবে সেটাকেই সিলমোহর দিল।

