মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছিল প্রাণ! পাননি যোগ্য সম্মান, আক্ষেপ নিয়েই পরলোক গমন করেছিলেন অভিনেত্রী রিতা কয়রাল!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের (Bengali Film Industry) জনপ্রিয় কয়েকজন অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন অভিনেত্রী রীতা কয়রাল (Rita Koiral)। বড় পর্দা হোক না ছোট পর্দা। সব জায়গাতেই নিয়ের অভিনয়ের দক্ষতার ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রথম আত্মজা ছবির হাত ধরে অভিনয় জগতে পা রাখেন অভিনেত্রী। তারপর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। অসুখ, খেলাঘর, পারমিতার একদিন, দত্ত ভার্সেস দত্ত, গণেশ টকিজ, জীবন নিয়ে খেলা, রাজমহলের মতো একের পর এক ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। একাধিক ধারাবাহিকেও (Bengali Serial) ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে অল্প সময়ের মধ্যেই পেয়েছিলেন বিপুল জনপ্রিয়তা। যদিও বেশিরভাগ সময় অভিনেত্রীকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যেত।

তবে অভিনেত্রীর হাতে সময় ছিল অনেক কম। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীকে আমরা সবসময় দাপুটে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি, তবে বাস্তবে ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন রীতা কয়রাল। অভিনেত্রীর মুখে সবসময় হাসি দেখা যেত। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই উতরাই এসেছে অভিনেত্রীর। প্রথম বিয়ে করেন অভিনেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২০০০ সালে মারা যান অভিনেতা। দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও শেষের দিকে স্বামীর সাথে থাকতেন না মেয়ে অমৃতাকে নিয়ে আলাদাই থাকতেন অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে সুখের না হলেও অভিনয় জগতে বেশ ভালই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন রীতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক ছবিতে ডাবিং এর কাজ করেছিলেন। সেইসময় একাধিক বাংলা ছবিতে বলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীরা কাজ করেছেন। আর তাদের অনেকের হয়েই ডাবিং করেছিলেন রীতা। কিন্তু একবার এই ডাবিং এর জন্যই শুনতে হয়েছিল হুমকি। আর সেই হুমকি দিয়েছিলেন বলিউডের আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা অনুপম খের।

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাড়িওয়ালি ছবি দর্শকমহলে আজও জনপ্রিয়। এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি। ওই বাড়িওয়ালি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনুপম খেরের স্ত্রী কিরণ খের, কিরণ অবাঙালি। তাই ছবিতে তাঁর গলা ডাবিং করেছিলেন রীতা কয়রাল। কিন্তু সেই কাজের জন্য কোনওদিনও তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ডাবিং করা কণ্ঠস্বর হলে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান না কোনও অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী। কিন্তু রীতা যে ডাবিং করেছিল সেই তথ্য গোপন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘সমাজমাধ্যমের পাতায় যা দেখানো হয়, সেটা জীবন নয়, অবসাদে আ’ত্মহত্যার কথা ভেবেছি!’ ‘আ’ত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’-এ মুখ খুললেন অভিনেত্রী অনামিকা

রীতা যাতে মুখ না খোলেন তাই তাঁকে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখানো হয়েছিল। আর সেই কাজ করেছিলেন ছবির অন্যতম প্রযোজক বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেছিলেন রীতা। সেই সময় অনুপম হুমকি দিয়েছিলেন “দেখব তুমি কী করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ কর।” পরবর্তী সময়ে লিভারের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতো। সেই কারণেই হাসপাতালে ভর্তি করা হতো। কিছুটা সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতেন অভিনেত্রী। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে রীতা কয়রালের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। একাধিক রিপোর্ট বলছে, মৃত্যুর সাতদিন আগেই কেমোথেরাপি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান রীতা।

Back to top button