‘আমি কাজ বেচতে এসেছি, নিজেকে নয়!’ ‘মায়ের সামনেই এসেছিল নোংরা অফার, বলা হয়েছিল…’ ‘এটা মেধা বিক্রির জায়গা, শরীর নয়!’ দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কাজের অভাব! ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি থেকে নোংরা প্রস্তাব, অকপটে ত্রমিলা ভট্টাচার্য!

বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী ত্রমিলা ভট্টাচার্য (Tramila Bhattacharya)। নব্বইয়ের দশকে ‘সীমারেখা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করা এই গুণী অভিনেত্রী দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘মোহিনী’, ‘প্রতিক্রান্ত’, ‘পটল কুমার গানওয়ালা’, ‘ময়ূরপঙ্ক্ষী’ এবং সাম্প্রতিক ‘সোহাগে আদর’-এর মতো একের পর এক সফল মেগা সিরিয়ালে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা, নীতি ও কাজের পেছনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ এবং নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে অভিনেত্রী জানান, তিনি শিল্পকে ভালোবেসে এই পেশায় এসেছেন এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের কাজ বা ‘স্কিল’ বিক্রি করতে চান, নিজেকে নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কেবল কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য যেকোনো আপস করাকে তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকদের কাছ থেকে যে সম্মান শিল্পীরা পান, সেই সম্মান রক্ষা করা তাঁদের নিজেদেরও দায়িত্ব। তাই কাজ পাওয়ার তাগিদে অনৈতিক কোনো পথ বেছে নেওয়া কোনো প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় হতে পারে না।
কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ইন্ডাস্ট্রি ও গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্ধকার দিক নিয়েও মুখ খোলেন ত্রমিলা। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে বড় পর্দার অনেক সুযোগ এলেও, তার সাথে জুড়ে থাকত নানান কুরুচিকর ও নোংরা প্রস্তাব। এমনকি একবার তাঁর মায়ের সামনেই তাঁকে এক কাস্টিং বা অফারের নামে অত্যন্ত অপমানজনক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নীতি বিসর্জন দিয়ে সেই সমস্ত নোংরা প্রস্তাবের সামনে মাথা নত না করায় অনেক ভালো কাজ থেকেও তিনি সরে এসেছেন এবং টলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা অনৈতিক চাপকে কখনো নিজের নীতি ভাঙার কারণ হতে দেননি।
ইন্ডাস্ট্রির পেশাদারিত্ব এবং কাজের যোগ্যতা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে কাজ না পাওয়ার পেছনে অনেকেই পলিটিক্স বা ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে দায়ী করেন, তবে ত্রমিলা মনে করেন, রাজনীতি যেমন একটি বাস্তব দিক, তেমনই যোগ্যতা না থাকাটাও কাজের অভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। একই সাথে কেবল রাজনীতিকে দোষ না দিয়ে শিল্পীদের নিজেদের কাজের মান বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া উচিত। অনৈতিক উপায়ে রাতারাতি সফলতা বা উন্নতি পাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, তাকে চরম ক্ষতিকর বলেই তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার শুভ সকাল আর শুভ থাকবে না…’ ‘সবাই রেগে যাবে আমার উপর!’ হঠাৎ কী এমন ভুল কাজ করে বসলেন সায়ক? মা-দাদার রো’ষাণলে পড়ার আগেই প্রকাশ্যে আনলেন আসল সত্যি!
কনটেন্ট ও স্টারডমের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ত্রমিলা আলোকপাত করেন টলিউডের সাম্প্রতিক গতিধারার ওপর। বহু প্রযোজক ও পরিচালক বিশাল বাজেট এবং ‘স্টার’দের নিয়ে বড় পর্দা বা প্রজেক্ট তৈরি করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছবিগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন ভালো গল্প ও চিত্রনাট্যের অভাবকে। শুধুমাত্র বড় তারকাদের দিয়ে ভালো গল্পের অভাব ঢাকা যায় না, এই সত্যকে স্বীকার করে তিনি জোর দিয়েছেন শক্তিশালী কনটেন্ট ও চরিত্রভিত্তিক অভিনয় দক্ষতার ওপর।

