‘আমার ছবিটা হাতে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল! দিনের পর দিন দরজায় দরজায় ঘুরেছি…’ ছিলনা মাথার উপর ছাতা! কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই চোখে জল আরাত্রিকা মাইতির!

আজকের দিনে বিনোদন জগতের গ্ল্যামার আর আলোর রোশনাই আমাদের সবাইকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। রূপোলি পর্দার তারকাদের জীবন, তাঁদের জনপ্রিয়তা এবং বিলাসবহুল জীবনযাত্রা দেখে অনেকেই ভাবেন এই দুনিয়া বুঝি শুধুই সুখের। কিন্তু আমরা পর্দার সামনে যে হাসিমুখ ও সাফল্য দেখি, তার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটা দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াইয়ের ইতিহাস। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে এই টলিউড বা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করা যে কতটা কঠিন, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতির (Aratrika Maity) জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

ইন্ডাস্ট্রিতে গডফাদার বা চেনা কোনো মানুষ না থাকলে স্ট্রাগলটা কেমন হতে পারে, তা অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পুরোনো দিনের কথা মনে করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং জানান যে, আজ তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাটা মোটেও সহজ ছিল না। অভিনয় করার অদম্য ইচ্ছে নিয়ে যখন তিনি প্রথম প্রথম এই পেশায় আসার চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁকে প্রতি পদে পদে বাধা এবং নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কোনো চেনা পরিচিতি না থাকায় দিনের পর দিন বিভিন্ন স্টুডিওর দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়েছিল তাঁকে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আরাত্রিকা পেয়েছিলেন একটি অডিশন দিতে গিয়ে, যা তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে গেছে। নবাগত হিসেবে যখন তিনি নিজের ছবি জমা দিতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁর ছবিটা হাতে নিয়ে কোনো গুরুত্ব তো দেনইনি, উল্টে মুখের ওপর তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। একজন নতুন শিল্পীর কাছে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত অপমানজনক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো। ছবি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি এবং সেই মুহূর্তের অপমান আজও তাঁর মনে দগদগে। সাধারণ মানুষের কাছে যা কেবল একটা ঘটনা, একজন স্বপ্ন দেখা মেয়ের কাছে তা ছিল মস্ত বড় আঘাত।

তবে এই চরম অপমান এবং অবহেলা কিন্তু আরাত্রিকার ভেতরের জেদটাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি ভেঙে না পড়ে নিজেকে আরও শক্ত করে গড়ে তোলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে শুধু দেখতে ভালো হওয়া বা ইচ্ছা থাকাই যথেষ্ট নয়, দরকার অসীম ধৈর্য এবং মানসিক শক্তি। এরপরও বহু জায়গায় তাঁকে প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের অভিনয়ের প্রতি বিশ্বাস রেখে তিনি ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং অবশেষে তাঁর সেই সততা ও পরিশ্রমের ফল তিনি পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমরা সাধারণ মানুষ, তাই বারবার হেরে যাই…’ বাবার মৃ’ত্যুশয্যায় ডিভোর্সের কঠিন সিদ্ধান্ত! বুকে চেপে রাখা কষ্টগুলো ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদার!

আজ আরাত্রিকা মাইতি বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত এবং ভালোবাসার মুখ। যে মানুষগুলো একসময় তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, আজ হয়তো তাঁরাই তাঁর অভিনয় দেখে হাততালি দেন। আরাত্রিকার জীবন থেকে একটা বড় শিক্ষা পাওয়া যায় পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, নিজের স্বপ্নের ওপর বিশ্বাস রাখলে এবং সততার সাথে পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন সাফল্য আসেই। তাঁর এই স্ট্রাগল স্টোরি বা লড়াইয়ের গল্প আজ হাজারো সাধারণ ছেলেমেয়ের কাছে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা, যারা প্রতিদিন কোনো না কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের প্রমাণ করার লড়াই লড়ছে।

Back to top button