নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও তুচ্ছ সন্তানের সুখের কাছে! পকেটে টান থাকলেও আদরের কমতি নেই! ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিক ফুটিয়ে তুলছে প্রতিটি মধ্যবিত্ত মা-বাবার লড়াইয়ের গল্প!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে নতুন মেগা ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibash)। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের ড্রয়িংরুমে জায়গা করে নিয়েছে এই ধারাবাহিকটি। এই ধারাবাহিকের হাত ধরেই দীর্ঘ বিরতির পর ছোট পর্দায় কামব্যাক করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ধারাবাহিকে তিনি ‘সাগর’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁর বিপরীতে নায়িকা ‘পল্লবী’র চরিত্রে দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত সাবলীল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসুকে। এছাড়াও ধারাবাহিকের মূল দুই স্তম্ভ হিসেবে রয়েছেন দুই কিংবদন্তি অভিনেতা-অভিনেত্রী দেবশঙ্কর হালদার (শ্রীনিবাস গুহর চরিত্রে) এবং সোহিনী সেনগুপ্ত (কমলার চরিত্রে)। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের যাপিত জীবন, স্বপ্ন আর আবেগের মিশেলে তৈরি হয়েছে এই ধারাবাহিকের প্রেক্ষাপট।
বর্তমানে ধারাবাহিকের কাহিনী আবর্তিত হচ্ছে পল্লবী এবং সাগরের বিয়ের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে। শ্রীনিবাস এবং কমলা দুজনেই তাঁদের বড় মেয়ে পল্লবীর বিয়ের তোড়জোড় করছেন। কিন্তু একজন সৎ ও সাধারণ মেকানিক শ্রীনিবাসের পক্ষে বিশাল ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেওয়া সহজ নয়। তাঁদের সংসারে আয়ের পরিমাণ সীমিত, প্রতিদিনের খরচ সামলে সঞ্চয়ের ভাণ্ডারও খুব একটা ভারী নয়। তবুও আদরের মেয়ের বিয়ের আয়োজনে কোনো খুঁত রাখতে চান না তাঁরা। সমাজের রক্তচক্ষু বা আর্থিক অভাব যেন মেয়ের খুশির পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই চিন্তায় শ্রীনিবাস ও কমলা দিনরাত এক করে দিচ্ছেন।
গল্পের সাম্প্রতিক মোড়ে ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্ত বাবা-মায়ের চূড়ান্ত বলিদানের চিত্র। গত কয়েকটি এপিসোডে দেখা গেছে, মা কমলা নিজের বাপের বাড়ি থেকে পাওয়া শেষ স্মৃতিটুকু অর্থাৎ তাঁর সমস্ত গয়নাগাটি মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে উজাড় করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাবা শ্রীনিবাস টাকার সংস্থানের জন্য হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, তবুও মাথা নিচু করছেন না পরিস্থিতির কাছে। নিজের জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁদের এই যে “প্রাণপাত” করা লড়াই, তা প্রতিটি দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছে। কোনো রকম আপস না করে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন তাঁদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
‘কমলা নিবাস’-এর এই চিত্রনাট্য আসলে কাল্পনিক নয়, এটি আমাদের সমাজের হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিচ্ছবি। আমাদের চারিপাশে প্রতিনিয়ত এমন কত শ্রীনিবাস বা কমলাকে আমরা দেখতে পাই, যাঁরা নিজেদের সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। মেয়ের বিয়ে বা ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য সারা জীবনের সঞ্চয় বা শেষ আশ্রয়টুকু হাসিমুখে তুলে দিতে তাঁরা কুণ্ঠাবোধ করেন না। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই লড়াকু মানসিকতা এবং মা-বাবার সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগকেই অত্যন্ত যত্ন সহকারে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক ও শিল্পীরা।
আরও পড়ুনঃ ‘পকেটে ছিলনা টাকা, পরাণদা ডেকে দুপুর বেলা ভাত খাওয়াতেন…’ ‘প্রডিউসারদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি!’ ‘উনি না থাকলে সেদিন কী হতো জানি না!’ স্মৃতিচারণে আবেগপ্রবণ শুভাশিস মুখোপাধ্যায় !
অল্প সময়ের মধ্যে ‘কমলা নিবাস’ জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ হলো এর মাটির কাছাকাছি থাকা গল্প। বর্তমান যুগের চাকচিক্যময় জীবনযাত্রার মাঝেও যে সাধারণ মধ্যবিত্তের আবেগ হার মানেনি, এই ধারাবাহিক তাই প্রমাণ করে। সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের এই যে অকাতর বিলিয়ে দেওয়া এবং নিঃস্বার্থ পরিচয় তা দর্শকের চোখে জল এনে দিচ্ছে। শ্রীনিবাস ও কমলার এই সংগ্রাম আসলে প্রতিটি মধ্যবিত্ত লড়াইয়ের জয়গান। পল্লবী ও সাগরের বিয়ে শেষ পর্যন্ত কীভাবে সুসম্পন্ন হয় এবং এই মধ্যবিত্ত পরিবারটি আগামী দিনে আর কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তা দেখতেই এখন উৎসুক দর্শকমহল।

