“‘সব্যসাচী চক্রবর্তী, রবি ঘোষ স্বয়ং আমার জন্য…লোকে কী বলল তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না!’ অনেক ভালোবাসা পেয়েছে সুদীপা বসু! তাঁকে অবাক করেছেন বড় বড় সব ব্যক্তিত্বরা! আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী!

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী সুদীপা বসু (Sudipa Basu)। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অজস্র স্মরণীয় চরিত্র। তবে পর্দার দাপুটে এই অভিনেত্রী বর্তমানে অভিনয় জগত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিলেন এক ভিন্ন মেজাজে। ‘সঙ্গে সঙ্গীতা’ নামক জনপ্রিয় ইউটিউব পডকাস্টে এসে তিনি শোনালেন তাঁর জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা, যা বর্তমান সময়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায় রূপকথার মতো শোনায়।

সাক্ষাৎকারে সুদীপা বসু ফিরে যান সেই দিনগুলোতে, যখন টলিউড শাসন করছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষের মতো দিকপালরা। তিনি জানান, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পেছনে কে কী সমালোচনা করল, তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন তাঁর জীবনের সেই সঞ্চয়গুলোকে, যা তিনি এই সব কিংবদন্তিদের থেকে পেয়েছেন।

সুদীপা বসু স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন যে, আজকের প্রজন্মের কাছে যা অকল্পনীয়, তা তিনি বাস্তবে দেখেছেন। শুটিং চলাকালীন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী তাঁর ক্লোজ-আপ শটের সময় নিজে হাতে থার্মোকল বা রিফ্লেক্টর ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন যাতে সহ-অভিনেত্রীর মুখে আলোটা ঠিকমতো পড়ে। একজন প্রতিষ্ঠিত নায়কের এই নিরহংকার মানসিকতা তাঁকে আজও আপ্লুত করে।

কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানান, শট শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সৌমিত্র বাবু ফ্লোর ছাড়তেন না। অভিনেত্রী যাতে প্রপার ইমোশন দিয়ে সংলাপ বলতে পারেন, তার জন্য তিনি ফ্রেমের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজে থেকে ‘কিউ’ (Cue) দিয়ে যেতেন। নতুনদের প্রতি বড় মাপের অভিনেতাদের এই দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা আজ বিরল। অভিনেত্রী রবি ঘোষের কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, মঞ্চে অভিনয় করতে যাওয়ার তাড়া থাকলে রবি ঘোষ নিজে উদ্যোগ নিতেন যাতে সুদীপা সময়মতো পৌঁছাতে পারেন। এমনকি পরিচালকদের কাছেও তিনি সুদীপার হয়ে সওয়াল করতেন।

আরও পড়ুনঃ স্বতন্ত্রের প্রতি ভোরের অধিকারবোধ! ভালো করতে গিয়ে একি অঘটন ঘটালো ভোর! শুরু হলো ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

এই মানুষগুলোর থেকে পাওয়া শিক্ষা ও ভালোবাসাই আজ সুদীপা বসুর বড় শক্তি। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যারা তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করেন, তাঁদের কথায় তিনি বিচলিত হন না। কারণ, তিনি এমন এক সময়ের সাক্ষী যেখানে শিল্প ও শিল্পীই ছিল শেষ কথা, ইগো বা দম্ভ নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে সুদীপা বসুর এই অভিজ্ঞতাগুলো যেন এক বড় পাঠ যেখানে বড় অভিনেতা হওয়ার আগে এক জন বড় মনের মানুষ হওয়াটা বেশি জরুরি।

Back to top button