পরিস্থিতি সব শেখায়! সেই অর্থে শিক্ষিত না হয়েও পরিবারের স্বার্থে আজ কর্মক্ষেত্রে দারুণ সফল রাই!

বর্তমানে বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় যে সমস্ত বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বিশেষ করে মেগা সিরিয়ালগুলি দেখানো হচ্ছে সেগুলির মধ্যেও এমন অনেক কিছু শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু যুক্ত করা হচ্ছে যা বাংলার আপামর জনগণকে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষাও প্রদান করবে। জি বাংলার (Zee Bangla) মিঠিঝোরা (MithiJhora) ধারাবাহিকের নায়িকা রাই বর্তমানে তেমনি একজন আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছে দর্শক মহলের কাছে। তার আত্মত্যাগ এবং পরিবারের হাল নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।
এই ধারাবাহিকের নায়িকা রাই নিজের বাবার মৃত্যুর পর নিজের প্রিয় মানুষের সাথে নীলাঞ্জনা অর্থাৎ নিজের মেজ বোনের বিয়ে দিয়ে দেয়। যাতে তার বোন ভালো থাকে এবং সে তার পরিবারের সমস্ত দায়-দায়িত্ব নিতে পারে। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে থাকে একটা চাকরি খুঁজে পাওয়ার। অবশেষে চাকরি জোগাড় করে ফেলে সে। নানা রকম কারণবশত সেই চাকরি তাকে ছাড়তে হয়। কারণ ব্যক্তিগত জীবনের সাথে কর্মজীবন বড্ড বেশি জড়িয়ে পড়ছিল। শুধুমাত্র অনিশ্চয়তার হাত থেকে মুক্তি পেতে এসে স্বামীর কোম্পানি ছেড়ে অন্য একটি কোম্পানিতে নিযুক্ত হয়। আর সেখানে নিজের কাজের মাধ্যমে সবার মন জয় করে নেয়।

দর্শকরা যারা এই ধারাবাহিকের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যাদের প্রত্যেক দিনের সঙ্গে এই ধারাবাহিক, তারা হয়তো জেনে থাকবেন ধারাবাহিকের তিন নায়িকা অর্থাৎ তিন বোনের মধ্যে স্রোত একমাত্র যে পড়াশুনায় ভালো। বাকি দুই বোন মোটামুটি। তারপরেও শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় এবং কাজ শিখিয়ে নেওয়ার অদম্য জেদ থেকে রাই ঠিক একটা চাকরি জোগাড় করে ফেলে। শুধু তাই নয় সেখানে সে সফলভাবে কাজও করতে থাকে। আর নিজের পরিবারের সমস্ত খরচা চালায়। বিয়ের পরেও সে নিজের দায় দায়িত্ব ভুলে যায়নি।
অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে রাইপূর্ণা
বর্তমান সমাজে মেয়েদের অনেকটাই খাটো ভাবে দেখা হয়। সব সময় মেয়েদের সাহস জোগাতে প্রায় প্রত্যেকেই একটা কথা বলে থাকে। একটা মেয়ে যখন বাড়ির একমাত্র মেয়ে হয় বা একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি হয় তখন সবাই বলে সে নাকি পরিবারের বড় ছেলের কাজ করছে। সঙ্গে সঙ্গে সেই মেয়েটির নিজস্বতাকে বিলুপ্ত করে তাকে একটি ছেলের সাথে তুলনা করে সেই ছেলেটির জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়। এটা কি আদৌ কোন প্রশংসা? কেন সব সময় একটি মেয়ে সবদিক সামলে পরিবারের সমস্ত রকম দায়িত্ব নিলেই সে ছেলে হয়ে যাবে? আর কেনই বা তাকে ছেলে হতে হবে?
আরও পড়ুন: নকল শাড়ি বিক্রি করে কেয়া শেঠ! বিরাট অভিযোগ আনলেন ঋতাভরীর মা! পাল্টা জবাব দিয়ে তাকে ধুয়ে দিলেন কেয়া শেঠ
এই সমাজে মেয়েরা সেদিনই নিজেদের ন্যায্য সম্মান পাবে যেদিন একটি মেয়ের সফলতা দেখে মানুষ বলবে, মেয়েটি মেয়েদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ছেলেদের জায়গায় তাকে না বসিয়ে, বাড়ির বড় ছেলে না বানিয়ে বড় মেয়ে হিসেবেই যেদিন মেয়েদের গণ্য করা হবে সেই দিনই মেয়েরা আসল সম্মান পাবে। একটি মেয়ে মানে যে বোঝা সেই ধারণা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে রাই বুঝিয়ে দিয়েছে, মেয়েরা কেবল বোঝা হয় না তারা দায়িত্ব নিতেও জানে। খুব বেশি উচ্চশিক্ষিত না হয়েও যে নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তারই জলজ্যান্ত নিদর্শন হয়ে উঠেছে এই ধারাবাহিকের নায়িকা।

