‘মানুষকে চিনতে হলে কাছে আসতে হবে…বিয়ের আগে লিভ-ইন অত্যন্ত জরুরী!’ কাছে এসে চিনতে হয়, না চিনে বিয়ে করা উচিত নয়! কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পিঙ্কি বন্দোপাধ্যায়!

বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। বর্তমানে তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন, একজন লড়াকু সিঙ্গেল মাদারও বটে। তিনি জীবনমুখী নানা গল্প ও অভিজ্ঞতার কথা দর্শকদের সাথে ভাগ করে নেন। শত ব্যক্তিগত ঝড়ের মাঝেও অভিনয় জীবন এবং নিজের সত্তাকে বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন এই অভিনেত্রী।
ব্যক্তিগত জীবনে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ পথচলা ছিল অভিনেতা ও বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের সাথে। দীর্ঘ ১০-১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৪ সালের শুরুতে তাঁদের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে কাঞ্চন মল্লিক পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও, পিঙ্কি নিজের সন্তান ওশ-কে নিয়ে একাই লড়ছেন। সিঙ্গল মাদার হিসেবে ছেলেকে বড় করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বর্তমানে তিনি বেশ ব্যস্ত ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল সময় পার করছেন।
যেকোনো মানুষের জীবনে বিচ্ছেদ কিংবা চড়াই-উতরাই অনেক গভীর উপলব্ধির জন্ম দেয়। পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমাজ ও সম্পর্কের চিরাচরিত নিয়মগুলো নিয়ে তিনি ইদানীং বেশ খোলামেলা আলোচনা করছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি সম্পর্কের সংজ্ঞায় ‘বিয়ে’র চেয়ে ‘একত্রে থাকা’ বা লিভ-ইন-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? সেই রহস্য দানা বেঁধেছে তাঁর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে, যা শুনে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে পিঙ্কি তাঁর জীবনের কিছু গভীর বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আধুনিক প্রজন্মের সম্পর্কের বাস্তবতা এবং পারিবারিক সংস্কারের মেলবন্ধনের এক অনন্য চিত্র। তিনি বলেন, জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করাই আসল সার্থকতা। সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা বিয়ের আগে একত্রে থাকাকে সমর্থন করে এক জোরালো যুক্তি দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ের ১৬ বছরে ১৬ টা দিনও আমি ভালো ছিলাম না, ৮ দিনের মাথা থেকেই আমার সঙ্গে…’ বি’ষাক্ত অতীত মুছে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছেন স্বর্ণকমল দত্ত! নিজের জীবন নিয়ে অকপটে অভিনেত্রী!
অভিনেত্রীর কথায় “ঠিক বেঠিক ভাবতে যেও না, যেটা সত্যি সেটাকে নাও সহজে। আমার বাড়িতে ছোটবেলা থেকে অসম্ভব স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। শুধু একটা জায়গায় তাদের একটু অস্বস্তির জায়গা ছিল— বিয়ের আগে লিভ-ইন করা। কিন্তু আমি ইউনিভার্সের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমার পরবর্তী জেনারেশন মানে আমার ভাইপো এবং আমার ছেলে যখন বড় হবে, তারা ভাবতেই পারবে না যে লিভ-ইন না করে একজনের সাথে থাকা সম্ভব। মানুষটা কেমন সেটা কফি শপে বসে বোঝা যায় না, তার সাথে থাকতে হয়।”

