‘বিয়ের ১৬ বছরে ১৬ টা দিনও আমি ভালো ছিলাম না, ৮ দিনের মাথা থেকেই আমার সঙ্গে…’ বি’ষাক্ত অতীত মুছে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছেন স্বর্ণকমল দত্ত! নিজের জীবন নিয়ে অকপটে অভিনেত্রী!

টেলিভিশন জগতের (Bengali Television) জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বর্ণকমল দত্তের (Swarna Kamal Dutta) ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এখন টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয়। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন কিছু যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যা শুনে চমকে উঠেছেন তাঁর অনুরাগীরা। পর্দার ওপারে সদা হাস্যময়ী এই অভিনেত্রীর অন্তরালে যে এতটা বিষাদ লুকিয়ে ছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা ছিল।
স্বর্ণকমলের জীবনের এই মোড় শুরু হয়েছিল মাত্র দেড় মাসের পরিচয়ে সুদীপ্ত ঘটককে বিয়ে করার মাধ্যমে। থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করতে গিয়েই তাঁদের আলাপ এবং দ্রুত পরিণয়। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সেই সময় খুব অল্প বয়সে আবেগের বশবর্তী হয়েই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিয়ের মোহ কাটতে খুব একটা সময় লাগেনি; অল্প দিনের মধ্যেই সংসারের আসল রূপ তাঁর সামনে প্রকট হতে শুরু করে।
অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্বর্ণকমল জানিয়েছেন, একসময় বাংলা ছোটপর্দায় তাঁর একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও বিয়ের পর তাঁর কাজের জায়গায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো। পেশাগত সাফল্যের চেয়েও ব্যক্তিগত জীবনের কলহ তাঁকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছিল। তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পর্কের ভিত যখন নড়বড়ে হয়ে যায়, তখন থেকেই তাঁর মনে এক গভীর একাকীত্ব দানা বাঁধতে থাকে।
নিজের এই কষ্টের দিনগুলোর কথা বহুবার বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দিনের শেষে যখন শুটিংয়ের ব্যস্ততা ফুরিয়ে যায়, তখন এক নিদারুণ শূন্যতা তাঁকে গ্রাস করে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচার তাগিদেই তিনি শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “‘সব্যসাচী চক্রবর্তী, রবি ঘোষ স্বয়ং আমার জন্য…লোকে কী বলল তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না!’ অনেক ভালোবাসা পেয়েছে সুদীপা বসু! তাঁকে অবাক করেছেন বড় বড় সব ব্যক্তিত্বরা! আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী!
বিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আজ তিনি আর একা নন। বর্তমানে স্বর্ণকমল তাঁর নিজের মেয়েকে নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা থাকছেন। এই কঠিন সময়ে ঢাল হয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর মা-বাবা এবং বাপের বাড়ির প্রতিটি সদস্য। পরিবারের এই নিঃস্বার্থ সমর্থন ও ভালোবাসা তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি জুগিয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে তিনি এখন অনেকটা স্বস্তিতে নিশ্বাস নিচ্ছেন।

