সবার সব চক্রান্ত ধরে ফেললো পর্ণা! নাটক করতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেল সুইটি!
জি বাংলার (Zee Bangla) নিম ফুলের মধু (Neem Fuler Modhu) ধারাবাহিকের নায়ক সৃজনের উপর নজর ছিলো অনেকের। কখনো তিন্নি তো কখনো ইশা, প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছিল সৃজনের জীবন থেকে পর্ণাকে চিরকালের মতন বের করে দিয়ে নিজে সেই জায়গা দখল করার। কিন্তু পর্ণা কখনোই সেটা হতে দেয়নি। সব সময় সমস্ত বিপদের হাত থেকে সৃজন এবং গোটা দত্তবাড়িকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সে। যার ফল স্বরূপ পর্ণা চরিত্রটি দর্শকদের কাছে এত প্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এইবার বোধ হয় আর শেষ রক্ষা হলো না।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, দত্ত বাড়িতে এসে পর্ণার মেয়ের চরম সর্বনাশ করার হুমকি দিয়ে যায় ইশা। যেটা নায়িকা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। তারপর তারা যখন জানতে পেরে ইশা ক্ষমতার লোভে বাবার বয়সী সুকুমার হালদারকে বিয়ে করতে চলেছে তখন পর্ণা আর সৃজন দুজন মিলে ইশাকে আটকাতে গিয়ে নিজেরা অনেক বড় বিপদের মধ্যে ঝাঁপ দেয়। তারা হয়তো ভাবতেও পারেনি তাদের সাথে এমন কিছু হতে চলেছে যেটা আগামী দিনে তাদের সংসার ছারখার করে দিতে পারে।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, রুচিরা ফোন করার পর থেকে পর্ণা বার বার সৃজনকে ফোন করতে থাকে কিন্তু ফোন ধরে না সৃজন। এখান থেকেই পর্ণার মনের সন্দেহ বাড়তে থাকে। তার মনে হতে থাকে সৃজন নিশ্চয়ই অনেক বড় কোন বিপদে পড়েছে যার জন্য ও ফোনটা ধরতে পারছে না। তাই সুইটির বন্ধুদের বারণ অমান্য করেই সৃজনের কাছে পৌঁছানোর জন্য ছুটতে থাকে পর্ণা। ওই মেয়ে গুলোও পর্ণাকে আটকানোর জন্য তার পিছু নেয়। অন্যদিকে একটু একটু করে চরম সর্বনাশের দিকে এগিয়ে যায় সৃজন।
পাড়ার ছেলেরা সৃজনকে বারবার হাসতে বলে, তারা চায় যাতে কোনভাবেই মনে না হয় সৃজন এই বিয়েটা জোর করে করছে। হাজারো বিরক্তি নিয়ে সৃজন বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে সবটা মেনে নেয়। যেহেতু তারা সবাই সৃজন এবং তার স্ত্রীর উপকার করেছে সেই কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে সে আর কিছু বলতে পারেনা। এরপর আসে সিঁদুর দান পর্ব। সৃজন জানিয়ে দেয় সে এই কাজটা করতে পারবে না। যদি একান্তই করতে হয় তাহলে যেন তারা লাল আবির এনে দেয়। কিন্তু তারা সৃজনকে বোঝাতে থাকে এটা একটা শর্ট ফিল্ম আর এর জন্য এসব করাই যায়। শেষমেষ তাড়াতাড়ি ঝামেলা মেটাতে সৃজন রাজি হয়ে যায়। তারপর কুনকে ভর্তি সিঁদুর নিয়ে হাতটা উপরের দিকে তুললে সুইটি নিজের থেকেই মাথাটা সেই কুনকের মধ্যে ঠেকিয়ে দেয়। যার ফলে সিঁদুর না পরাতেই সুইটির সিঁথি সিঁদুরে লাল হয়ে যায়। আর ঠিক তখন থেকেই সবাই বলতে থাকে বিয়ের সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: জি বাংলার আসন্ন মেগায় নায়ক হিসেবে থাকছেন এক জনপ্রিয় অভিনেতা! প্রোমো প্রকাশের তারিখ জানিয়ে দিল চ্যানেল!
এরপর গ্রামের সবাই এই বিয়েটাকেই সত্যিকারের বিয়ে বলে দাবি করতে থাকে। সৃজন ভীষণ ভয় পেয়ে যায় আর ঠিক তখনই সেখানে চলে আসে পর্ণা। সে সবটা শুনে বুঝতে পারে এই সব কিছু পূর্ব পরিকল্পিত প্ল্যান করে তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। সে সোজা সুইটিকে জেরা করতে শুরু করে কিন্তু সেও এমন ভান করে যেনো তার কাছেও সবটা অজানা ছিল। এরপর গ্রামের লোকেরা নতুন নাটক শুরু করে। তারা বলে যদি সুইটিকে ওই শহরের বাবু তাদের নিজেদের বাড়িতে না নিয়ে যায় তাহলে কেউ এই গ্রাম থেকে বের হতে পারবে না সবাইকে মেরে পুঁতে দেবে তারা। সবার থেকে পালাতে সৃজন পর্ণা এবং সুইটি তিনজনের সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর দৌড়াতে দৌড়াতে তারা মেইন রোডে এসে পৌঁছয়। সেখানে সৃজন আর পর্ণা তাড়াতাড়ি করে বাসে উঠে যায় কিন্তু সুইটি পিছনেই রয়ে যায়। কারণ সে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় আঁচড়ে পড়ে। আর এখানেই শেষ হয় আজকের পর্ব। কি মনে হয় দর্শকদের সুইটিকে কি করে নিয়ে যাবে সৃজন নাকি এখানে সমস্ত খেলা শেষ হবে সুইটির?

