টাকার গরমে টগবগ করে ফুটছে সোহিনী! মা ছেলের ন্যাকামির উচিৎ জবাব দিল রাই!

বর্তমানে টানটান উত্তেজনা পর্ব নিয়ে দারুণভাবে এগোচ্ছে জি বাংলার (Zee Bangla) মিঠিঝোরা (Mithijhora) ধারাবাহিকটি। ধারাবাহিক শুরুর সময় এতটা জনপ্রিয়তা না পেলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা কিন্তু বাড়ছে দর্শকমহলে। তা গতকালের টিআরপি তালিকা দেখলেই বুঝতে পারবেন আপনি। এক লাইফে শেষের দিক থেকে ৫ নম্বরে উঠে এসেছে মিঠিঝোরা। ধারাবাহিকের গল্প অন্যদিকে মোড় নেওয়ায় কপাল খুলে গিয়েছে।
ধারাবাহিকে বর্তমানে রাইয়ের জীবন তোলপাড়ের গল্প দেখানো হচ্ছে। শুরুর সময় থেকেই দেখানো হয়েছিল রাই একজন প্রাণোচ্ছল, খোলামেলা, হাসিখুশি স্বভাবের মেয়ে। কিন্তু তার জীবনে একের পর এক বিপদ এসেই চলেছে। তার জীবনটা উলটপালট হয়ে যায় একসময়। প্রথমেই তো দেখানো হয় রাইয়ের বাবার হঠাৎ মৃ’ত্যুতে যার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল সেই শৌর্য-এর সঙ্গে প্রায় পরিস্থিতির শিকার হয়ে তার বোন নীলু সঙ্গে বিয়ে দিতে হয়। এরপর এই রাইয়ের দেখা হয় অনির্বাণের সঙ্গে। আর মূলত সেখান থেকেই রাইয়ের জীবন আরও নষ্ট হতে শুরু করে।

গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকে রায়ের অপারেশনের গল্প দেখানো হচ্ছে। রাইয়ের এই অসুস্থতা নিয়েও অনির্বাণের মনে সন্দেহ হয় রাইকে নিয়ে। যার কারণে রাই এবং অনির্বাণ এর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। সেই থেকেই তৈরি হয়েছে দূরত্ব। অনির্বাণ ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই অনুতাপে ভুগছে, একবার রাইকে দেখার জন্য ছটফট করছে। কিন্তু রাই তার বাড়ির লোক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে অনির্বাণ বা তার বাড়ির লোকের সঙ্গে রাই আর কোনদিনই দেখা করতে চায় না।গতকালের মত ধারাবাহিকে আজকের পর্বে আরো টুইস্ট অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য।
মিঠিঝোরা আজকের পর্ব (Mithijhora Today Episode 13 September)
সম্প্রতি ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যাচ্ছে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে রাই। স্রোত বউমনি এবং সাথে রয়েছেন সার্থক স্যার। রাইকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর পথে রাইয়ের পথ আটকে ধারায় অনির্বাণ এবং তার মা। অনির্বাণ এসে রাইকে বারবার বোঝাতে থাকে তার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার জন্য। এমনকি অনির্বাণের মাও অনুরোধ করে ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু রাই একটাও কথা বলে না। মুখ ফিরিয়ে নেয় অনির্বাণের থেকে। এরপর অনির্বাণের মা টাকার জোর দেখিয়ে বলে রাইয়ের ভালো চিকিৎসা হবে অনির্বাণের বাড়িতে গেলে। তার জন্য স্পেশাল নার্স রাখা হবে, সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। কিন্তু এতেও বিশেষ কাজ হয় না স্রোত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় টাকা দিয়ে তারা আর যাই করুক তাদের মান সম্মান কিনতে পারবেন না।
অন্যদিকে অনির্বাণ রাইকে বোঝাতেই থাকে একবার তাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য শেষবারের মতো। স্রোত এবং অনির্বাণের মায়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর রাই অনির্বাণকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এবার থেকে অনির্বাণ নয় রাইয়ের জীবনের সমস্ত সিদ্ধান্ত রাই নিজে নেবে। এ কথা বলার পর অনির্বাণ আর কিছু বলার পরিস্থিতি থাকে না। সেখান থেকে রাইকে নিয়ে বেরিয়ে যায় তার বাড়ির লোক। এরপরে দেখা যায় অনির্বানের মা বাড়িতে ফিরে এসে অনির্বানের বাবাকে সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত বলে। তিনি জানান কিভাবে রাইয়ের বোন এবং বউমনি মিলে তাদের অপমান করেছে। কিভাবে রাই মুখের উপর অনির্বাণকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অনির্বাণ এখন রাইয়ের পায়ে লুটিয়ে পড়ছে।
View this post on Instagram
এরপরে বাড়িতে এসে স্রোত এবং রাইয়ের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হয়। স্রোত রাইকে বোঝায় কিভাবে রাইকে এখন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে হবে। রীতিমতো দিদিকে শাসনে রাখে সে। এরপরে হঠাৎ করে স্রোতের ফোনে ফোন আসে অচেনা নাম্বারে। ফোন ধরে স্রোত বুঝতে পারে রাইয়ের নতুন অফিসের বস ফোন করেছে। এরপরে তিনি রাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। ফোনে তিনি রাইয়ের খোঁজখবর নেন। কেমন আছে সেই সমস্ত জিজ্ঞাসা করেন। এরপরই আতঙ্ক নিয়ে রাই স্যারকে জিজ্ঞাসা করে এবার কি তাহলে রাইকে এই কাজ থেকে বঞ্চিত করা হবে? তখন তার অফিসের বোস আশ্বাস দিয়ে জানায় এমনটা কখনোই হবে না। বরং রাইয়ের এই অসুস্থতার সময়ে সে যতদিন না কাজে ফিরছে ততদিন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ স্যালারি তাকে তারা দেবে এবং একটু একটু করে এক বছর ধরে স্যালারি থেকে এই টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং আগামী ২ বছর রাই এই চাকরিটা কোন মতেই ছাড়তে পারবে না। এত পর্যন্ত সব ঠিকই রয়েছে। এবার দেখার অপেক্ষা রাই এবং অনির্বাণ এর সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

