“আমাকে ঠিক মুসলমান লাগেনা”, ট্রোলারদের কী বললেন মীর? এতদিনে রেডিও ছাড়ার আসল কারণ খোলসা করল মীর!

মীর আফসার আলী (Mir Afsar Ali) ওরফে মীর, এই নামটা এখন আর শুধুমাত্র একটা নাম নয়। এই নামটা হল একটা গোটা ব্র্যান্ড। বাংলা টেলিভিশনে এই মানুষটির অবদান অপরিসীম। একজন অভিনেতাকে একটি নির্দিষ্ট প্রজেক্টে এক বা একাধিক চরিত্র দেখা যায়। কিন্তু এই মানুষটি নিজের বাস্তব জীবনেই একাধিক চরিত্রে একাধিক ভূমিকা সফলভাবে পালন করেছেন এবং দর্শকদের মনে একটা পাকাপাকি জায়গা তৈরি করে ফেলেছেন।

কখনো তাকে দেখা গিয়েছে সংবাদ পাঠক হিসেবে আবার কখনো দেখা গিয়েছে রেডিও জকি হিসেবে আবার কখনো বাংলার নাম্বার ওয়ান কমেডি শো এর স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে। এখন তাকে দেখা যাচ্ছে গল্প-পাঠক হিসেবে। প্রতিটি বিভাগেই তার ভূমিকা একেবারে নিখুঁত এবং আকর্ষণীয়। প্রায় পঞ্চাশ হতে চলা এই ব্যক্তির মধ্যে এখনো যে পরিমাণ উদ্দীপনা রয়েছে সেটা বাংলার দর্শকদের তথা আপামর বাঙালীকে প্রতিদিন নতুন করে অনুপ্রেরিত করে। সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে ঈদের দিন একটি ছোট সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় তার।

এই সাক্ষাৎকারে তাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। যে প্রশ্নটা এখনো হাজারো মানুষের মনে মাঝে মধ্যেই উঁকি মারে। হঠাৎ রেডিও কেন ছেড়ে দিলেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে মীর জানান, “একরাশ কষ্ট দুঃখ অভিযোগ নিয়ে আমি রেডিও ছেড়ে দিয়েছি। সিদ্ধান্তটা খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু কোথাও গিয়ে আমি আমার প্রাপ্যটা ঠিকঠাক পাচ্ছিলাম না। এছাড়াও দিন দিন এই রেডিও কেমন যেন অচেনা হয়ে উঠতে শুরু করেছিল আমার কাছে। যেখানে কোন বাংলা গানের ছোঁয়া ছিল না। দিন রাত ওই একই পাঞ্জাবি হিন্দি গান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাজানো আমি খুব বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যেভাবে বলছিলাম সেভাবে রেডিও শুনছিলো না আর রেডিও যেভাবে বলছিল সেটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই দ্বন্দ্ব টা যাতে না হয় তাই ছেড়ে দিলাম।”

এছাড়াও এই অভিনেতা তথা সঞ্চালক তথা রেডিও জকি মীর আফসার আলীকে আরো একটি বিষয় বেশ ব্যথিত করেছে। তিনি এই সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি কখনো ধর্ম নিয়ে বড়াই করি না। আর ধর্ম তো ধারণ করার জিনিস। এটা কখনো একটা মানুষের পরিচয় হতে পারে না। কিন্তু অনেক সময় অনেক কমেন্টে দেখেছি আমাকে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে ঠিক মুসলিম মুসলিম লাগেনা’ এই কথার অর্থ আমি আজও বুঝতে পারিনি। মুসলিম মুসলিম লাগানোর জন্য কি প্রয়োজন হয় আমি জানিনা।”

আরও পড়ুন: ‘সম্পর্কে কখনো তৃতীয় ব্যক্তিকে আসতে দিইনি…’, সম্পর্ক প্রসঙ্গে অকপট অভিনেত্রী নবনীতা দাস

তিনি আরো বলেন, “এক সময় এসব দেখলে বেশ খারাপ লাগতো আবার রাগ হত। কিন্তু তারপর এসব দেখা আমি ছেড়ে দিয়েছি। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে যায় ঠিকই তবে ইচ্ছাকৃতভাবে আর এসব দেখি না। কারন মানুষের মানসিকতা বদলানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি যেটা করতে পারি সেটা হল আমি নিজেকে বদলাতে পারি।” এই দিনটার সাক্ষাৎকার দর্শকদের কাছে বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ তিনি নিজের একদম শুরু থেকে বর্তমান সময়ে অবধি সবটাই এক নিঃশ্বাসে দর্শকদের জানান।

Back to top button