‘ভোটে জিতলেই গলার আওয়াজ বাড়ে…’ ‘গলার আওয়াজ আর বাজে কথাই সার…’ ‘কাজ, পরিশ্রম দিয়ে জায়গা ধরে রাখার ক্ষমতা নেই…’ শর্বরী মুখার্জির মন্তব্যে অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের তীব্র কটাক্ষ!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে SFI ও ABVP সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এবার সেই মন্তব্য নিয়েই সরব হলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শর্বরীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যকে নিশানা করে একটি পোস্ট করেন ঋদ্ধি। অভিনেতা লেখেন, ভোটে জেতার পর অনেকেরই গলার আওয়াজ বেড়ে যায়। ভোটের ব্যবধান যত বাড়ে, চিৎকারের মাত্রাও তত বাড়ে এবং সঙ্গে বাড়ে নানা ধরনের মন্তব্য। বিশেষ করে যখন কেউ বুঝতে পারেন, নিজের কাজ বা পরিশ্রম দিয়ে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন, তখনই এমন আচরণ দেখা যায় বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

ঋদ্ধির বক্তব্য, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ধরে রাখার ক্ষমতা না থাকলে অনেকেই চিৎকার ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তবে এমনভাবে আসল বিষয়কে বেশিদিন আড়াল করা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দেন অভিনেতা। নিজের পোস্টে তিনি শর্বরীর কথা বলার ধরন নিয়েও মন্তব্য করেন। যদিও কোথাও সরাসরি বিধায়কের নাম নেননি ঋদ্ধি, তাঁর পোস্টের লক্ষ্য নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

শর্বরীর বক্তব্যের ধরন নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে ঋদ্ধি অভিনয়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি লেখেন, আপাতত আরও মন দিয়ে অভিনয় করতে হবে। সাজপোশাক ঠিক থাকলেও গলার স্বরের ওঠানামা বা ‘ভোকাল মডুলেশন’ আরও ভালো করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সবসময় খুব উঁচু স্বরে কথা বললে তা শুনতে একঘেয়ে লাগে বলেও ব্যঙ্গ করেন অভিনেতা। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

আরও পড়ুনঃ হীরের কারবারে বড় থাবা! পুজোর মুখে মোনালিদের দোকানে তালা ঝোলাবে পারুল! কি করতে চলেছে সে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতের সংঘর্ষে ABVP-র অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনের নেতৃত্বের। খবর পেয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়েছিলেন শর্বরী। সেখানেই তিনি কড়া ভাষায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নকশাল, মাওবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির দখলে থাকতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে নিশানা করে তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্ররা এক ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বের করা হবে।

Back to top button