দারুন টুইস্ট দিয়ে শেষ হলো ইচ্ছে পুতুল, শেষ পর্ব চোখে জল আনলো দর্শকদের!

অন্তিম কাল আসন্ন। তার আগেই অসাধারণ এক গল্প পরিবেশন করে দর্শকদের মনে পাকাপাকিভাবে দাগ কেটে যাচ্ছে জি বাংলার (Zee Bangla) চ্যানেলের ইচ্ছে পুতুল (Ichhe Putul)। শুরু থেকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই ধারাবাহিকটিকে। তবে পরবর্তীতে ঠিক নিজেকে প্রমাণ করেছে এই মেগা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় টিআরপিতে কখনোই মাথা তুলতে পারেনি এই ধারাবাহিক তবুও দর্শকদের ভালোবাসায় একটা গোটা বছর যাত্রা সম্পন্ন করেছে ইচ্ছে পুতুল।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, বেশ সংকটজনক অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল ধারাবাহিকের খলনায়িকা ময়ূরী। তাকে বাঁচানো রীতিমত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল ডাক্তারদের কাছে। তারা স্পষ্টভাবেই অনিন্দ্য মধুমিতাকে জানিয়ে দিয়েছিল, ময়ূরীর হাতে আর খুব বেশিক্ষণ সময় নেই। এসব জানতে পেরে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিল মধুমিতা কারণ সে তার নিজের বড় মেয়েকে চোখের সামনে এভাবে মরতে দেখতে কিছুতেই পারছিল না। এদিকে তাদের হাতে কোন উপায় ছিল না কারণ মেঘ এই মুহূর্তে রক্ত দেওয়ার অবস্থাতে নেই। যদিও এই কথা জানতে পেরে চুপ করে বসে থাকতে পারেনি মেঘ। সে অসুস্থ শরীরেই সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসেছে তার দিদিকে রক্ত দিতে।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, প্রচন্ড ভেঙে পড়েছে মেঘ। ঘন ঘন দুইবার রক্ত দিয়ে তার শরীরে আর একটুও শক্তি বেঁচে নেই। অন্যদিকে ধীরে ধীরে চোখ খুলছে ময়ূরী। মেঘের রক্ত শরীরে যেতেই একটু একটু করে সুস্থ হয়ে উঠছে সে। অর্থাৎ এই যাত্রায় মেঘ আবারও বাঁচিয়ে দিয়েছে তাকে। অনিন্দ্য ময়ূরীকে বলে, আজ মেঘের জন্য বেঁচে গিয়েছে ময়ূরী কিন্তু মেঘ এখনো অসুস্থ। বারবার মেঘ ময়ূরীকে বাঁচিয়েছে কিন্তু ময়ূরী তার বোনকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এতকিছুর পরে আবারো কি সে তার নিজের বোনকে মারতে ছুটবে? কথাগুলো শুনে ময়ূরী বুঝতে পারে সে কত বড় অন্যায় করেছে। যাকে সে মারতে গিয়েছিল আজ তার জন্যই সে যমের মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

এরপর ময়ূরী মেঘের সাথে দেখা করতে চায় কিন্তু কেউ তাকে অনুমতি দেয় না। সে নিজেই চলে যায় মেঘের হাসপাতালে। প্রথমে সবাই বারণ করলেও পরে মেঘ যেহেতু দেখা করতে চায় তাই ময়ূরীকে মেঘের ঘরে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়ে দেয় প্রত্যেকে। ময়ূরী মেঘকে বলে, সে আর আগের মতন নেই সে এবার সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সে বুঝতে পেরেছে কত বড় ভুল করে এসেছে এতদিন ধরে। মেঘ কি তাকে আর একবার বিশ্বাস করবে? মেঘ ময়ূরীকে বলে, সে তাকে আগেও বিশ্বাস করত এখনো বিশ্বাস করে আর ভবিষ্যতেও করবে। কে কি বলল তাতে তার কিছু যায় আসে না।

আরও পড়ুনঃ ছোট্ট কাঁকন এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু! এই কাঁকন আসলে কে? তাঁর বাস্তব পরিচয় জানলে চমকে যাবেন

এরপর দুজনেই সুস্থ হয়ে ওঠে। দু’বছর কেটে যায়, আর মেঘের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়। মেঘের চাইতে মেঘের মেয়ে অনেক বেশি সময় তার মাসীমণি ময়ূরীর কাছেই থাকে। তাদের দুজনের বন্ধুত্ব বেশ ভালোভাবেই জমেছে। ময়ূরী মেঘের মেয়েকে ভীষণ ভালবাসে। মেঘ যখন তার গানের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে তখন টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে ময়ূরী বলে, “দেখ তোর মা কেমন পুরস্কার পাচ্ছে তোকেও এমন হতে হবে তোর মাসীমণি তোকে এভাবেই তৈরি করবে।” ময়ূরীর এমন বদল এবং তার বোনের প্রতি তার ভালোবাসা অবাক করে নীলকে। এমন ভাবেই একটি সুন্দর সমাপ্তির মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ইচ্ছে পুতুলের গল্প।

Back to top button