‘হাসপাতালে শয্যাশায়ী, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, তবুও ভোরবেলা ফোন করে উনি…’ ৮৫-তেও অদম্য মাধবী মুখোপাধ্যায়! অভিনেত্রী হিসেবে কতটা নিষ্ঠাবান তিনি? জানালেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়!

১০ ফেব্রুয়ারি বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের ৮৫তম জন্মদিন। বয়স কেবল সংখ্যায় আটকে রয়েছে, মন আর কাজের প্রতি ভালবাসা আজও একই রকম তরতাজা। এখনও শুটিং সেটে তাঁর চোখে মুখে সেই পুরনো উত্তেজনা, শরীরে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। এই মুহূর্তে দর্শক তাঁকে দেখছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ভোলে বাবা পার করেগা তে। এত বছর ধরে কাজের মধ্যেই নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি, আর সেখানেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর চিরযৌবনের রহস্য।

প্রবীণ অভিনেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের। জন্মদিনে মাধবী মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে কিছু বিশেষ স্মৃতি ভাগ করে নিলেন লীনা। বয়সের কথা মাথায় রেখে শুটিংয়ের সময়সূচি যতটা সম্ভব আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করেন তিনি, যাতে অভিনেত্রীর কোনও রকম অসুবিধা না হয়। কিন্তু মাধবীর ক্ষেত্রে ছবিটা উল্টো। সেটে কম সময় নয়, বরং আরও বেশি সময় থাকতে চান তিনি। লীনার কথায়, পরিবার হয়ে ওঠে পুরো টিমটাই।

লীনা জানালেন, দেরিতে কলটাইম পেলে মাধবী নিজেরই বেশি খুশি হন। কারণ তখন তিনি অনেকটা সময় শুটিং সেটে কাটাতে পারেন। কাজের প্রতি এই ধৈর্য আর নিষ্ঠাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। জন্মদিন এলেই লীনার মনে ভেসে ওঠে একটি বিশেষ দিনের কথা। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকেও শুটিংয়ের খোঁজ নিচ্ছিলেন অভিনেত্রী। সেই স্মৃতি আজও লীনাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। সোডিয়াম আর পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারছিলেন না। তবুও ভোরবেলায় হাসপাতাল থেকেই ফোন করেছিলেন লীনাকে। জানিয়েছিলেন সেদিন শুটিং করতে পারবেন না। পাশাপাশি এটাও জানতে চেয়েছিলেন, কবে থেকে আবার শুটিং শুরু করতে পারবেন। তখনও তাঁর কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্ত কোনও দিন ভুলতে পারেননি লীনা।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের আসর থেকে গায়েব পিসিমণি! সমরেশের নতুন চাল না কি অন্য কোনো রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

৮৫তম জন্মদিনে তাই লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের একটাই প্রার্থনা। মাধবী মুখোপাধ্যায় যেন সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন। যেমন নিষ্ঠা আর ভালোবাসা নিয়ে আজও কাজ করে চলেছেন, ঠিক সেই ভাবেই যেন আগামী দিনগুলোতেও শুটিং সেটে তাঁকে দেখা যায়। কাজই যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে বড় আনন্দ।

Back to top button