‘আমাকে বাদ দেওয়ার অনেক চেষ্টা হয়েছে!’ ‘আমি এখনো যা পেয়েছি, ওদের থেকে অনেক বেশি…!’ টলিউডের নোংরা রাজনীতির শিকার স্বয়ং লিলি চক্রবর্তী! নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায় নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী!

টলিউড (Tollywood) বা বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের কাস্টিং কাউচ কিংবা একে অপরকে টেনে নিচে নামানোর প্রতিযোগিতা নতুন কোনো বিষয় নয়। যুগে যুগে বহু অভিনেতা-নেত্রীই এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছেন। তবে এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন টলিউডের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakraborty)। সম্প্রতি ‘শর্মিলা শো-হাউজ’ নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে বিনোদন দুনিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, তাঁর অভিনয় জীবনে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যেখানে কিছু মানুষ তাঁকে সিনেমা বা নির্দিষ্ট চরিত্র থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পর্দার পেছনে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে নেওয়ার জন্য রীতিমতো চক্রান্ত করা হয়েছিল। সাধারণত এই ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হলে যেকোনো শিল্পীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন কিংবা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কিন্তু লিলি চক্রবর্তী ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি জানান, এই ধরণের নোংরা রাজনীতি দেখেও তিনি কখনো মন খারাপ করেননি বা কারো প্রতি কোনো রকম ক্ষোভ পুষে রাখেননি।
আরও পড়ুন: ‘আমি চোর হলে ইন্ডাস্ট্রির ৯০% লোকই তাহলে চোর!’ ‘উনি তো আমারও আগে ওর থেকে টাকা নিয়েছে!’ নাম না করে হিরণকে তোপ দেবের!
অভিনেত্রী তাঁর সেই সময়ের মানসিকতার কথা বলতে গিয়ে জানান, তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলতেন। তাঁর কথায়, সিনেমা তৈরি করা বা কাস্টিং করার ক্ষমতা যাঁদের হাতে ছিল, তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এটা নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা রাখলে আজ হোক বা কাল, সঠিক সুযোগ তিনি ঠিকই পেয়ে যাবেন। অতীতে যারা তাঁকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের পরোক্ষ জবাব দিয়ে লিলি চক্রবর্তী আজ গর্বের সঙ্গে বলেন যে, দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে যা ভালোবাসা এবং সম্মান পেয়েছেন, তা হয়তো সেই চক্রান্তকারীদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
এই চক্রান্তের গভীরতা কতটা ছিল, তা বোঝাতে সাক্ষাৎকারে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার অবতারণা করা হয়। জানা যায়, লিলি চক্রবর্তীর জন্য চূড়ান্ত হওয়া একটি চরিত্রের লোভ সামলাতে না পেরে টলিউডেরই অন্য এক ব্যক্তিত্ব সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে ওই ব্যক্তি ডিস্ট্রিবিউটরকে অনুরোধ করেন যেন লিলি চক্রবর্তীর পরিবর্তে রোলটি তাঁকে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, লিলি চক্রবর্তী ওই কাজের জন্য ঠিক যে পরিমাণ পারিশ্রমিক বা টাকা দাবি করেছিলেন, ঠিক সমপরিমাণ টাকাতেই কাজ করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি, যাতে লিলি চক্রবর্তীকে কোনোভাবেই ওই সিনেমায় না নেওয়া হয়।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন এই পুরো ঘটনাটি পর্দার আড়ালে ঘটছিল, তখন লিলি চক্রবর্তী এর বিন্দুমাত্র টের পাননি। তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। পরবর্তীতে ছবিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই স্বয়ং লিলি চক্রবর্তীর কাছে এসে এই পুরো নোংরা রাজনীতির গল্পটি ফাঁস করেন এবং জানান কীভাবে তাঁকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। লিলি চক্রবর্তীর মতো একজন গুণী ও সজ্জন অভিনেত্রীর সঙ্গে টলিউডের ভেতরের মানুষের এই ধরণের আচরণ প্রমাণ করে যে, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চকচকে পর্দার আড়ালে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে থাকে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে লিলি চক্রবর্তী আজ নিজের যোগ্যতায় ইন্ডাস্ট্রির এক অনন্য শিখরে অবস্থান করছেন।

