‘আমি চোর হলে ইন্ডাস্ট্রির ৯০% লোকই তাহলে চোর!’ ‘উনি তো আমারও আগে ওর থেকে টাকা নিয়েছে!’ নাম না করে হিরণকে তোপ দেবের!

বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে তিনি যেমন ‘খোকাবাবু’, রূপালী পর্দায় তেমনই একচ্ছত্র সুপারস্টার। অভিনয় জগতের শিখরে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও নিজের এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন দীপক অধিকারী ওরফে দেব (Dev Adhikari)। ২০১৪ সালে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত সক্রিয়। একদিকে যখন তিনি ‘চ্যাম্প’, ‘গোলন্দাজ’ কিংবা আসন্ন ‘রঘু ডাকাত’-এর মতো বড় মাপের সিনেমার মাধ্যমে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক অন্যদিকে তেমনই লোকসভার জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নিজের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে গ্ল্যামার আর রাজনীতির এই জোড়া সফরের মাঝেই বারবার বিভিন্ন বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে পড়তে হয়েছে এই অভিনেতাকে, যা নিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক মহলে চর্চা লেগেই থাকে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দেবকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দিকে উড়ে আসা রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই মুখ খুলেছেন ঘাটালের এই সাংসদ। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দেব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রতিনিয়ত যে ধরণের মন্তব্য করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক আত্মসম্মান রক্ষায় সোচ্চার হয়েছেন এই টলিউড তারকা।
আরও পড়ুন; ‘প্রচার পিছু ২৫ লাখ! টাকার জন্যই এরা তৃণমূলে যায়…’ ‘কোয়েলের রাজনৈতিক বুদ্ধি নেই’ ‘দেবের ওসব থিওরি ভণ্ডামি!’ দেব-কোয়েলদের তীব্র আক্রমণ রূপালী ভট্টাচার্যের!
উক্ত ভিডিওটিতে দেব সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং বিরোধী দল বিজেপির যোগসূত্র নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ইডি (ED) বা সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার অত্যন্ত গোপনীয় এবং সংবেদনশীল নথিপত্র কীভাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে? দেবের দাবি, একটি নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের টাকা তিনি অনেক আগেই আইনি নিয়ম মেনে ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত তিন বছর ধরে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তাঁকে ক্রমাগত ‘গরু চোর’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভিডিওর একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সহ-অভিনেতা তথা খড়গপুর সদরের বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জীর নাম না করে তাঁর প্রতি তীব্র পাল্টা আক্রমণ। দেব অভিযোগের সুরে জানান, পিন্টু মণ্ডলের সাথে তাঁর যোগাযোগের কথা বলে যে ব্যক্তি আজ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করছেন, তিনি নিজে পিন্টু মণ্ডলের সাথে দেবের অনেক আগে থেকে কাজ করেছেন এবং আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন। দেবের স্পষ্ট বক্তব্য, যদি পিন্টু মণ্ডলের সাথে পেশাদার সম্পর্কের কারণে আজ তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, তবে ২০০৯ সালের পর থেকে রথযাত্রার বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও অনুষ্ঠানে টলিউডের যে সমস্ত প্রথম সারির তারকারা কাজ করেছেন, সেই যুক্তি অনুযায়ী তো বর্তমান বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পীই অপরাধী বা দোষী সাব্যস্ত হবেন। কেবল বেছে বেছে তাঁর দিকেই কেন আঙুল তোলা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পরিশেষে বলা যায়, দেবের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার বর্তমান বাংলার রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের সমীকরণকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। দেবের অনুগামীদের মতে, তিনি তৃণমূলের একজন প্রথম সারির সাংসদ এবং জনপ্রিয় মুখ বলেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বারবার কেবল তাঁকেই তদন্তের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। যেখানে ইন্ডাস্ট্রির সিংহভাগ মানুষ একই ধরণের পেশাদার কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, সেখানে এককভাবে দেবকে নিশানা করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা এই ভিডিওর মাধ্যমে দেব অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই পাল্টা জবাবের পর টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

