বয়সে ১৪ বছরের ছোট স্বামী! কেন মা হলেন না সোহিনী? কতটা সুখের সোহিনী-সপ্তর্ষির বৈবাহিক জীবন?

বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন সবসময়ই গ্ল্যামারের আলোয় মোড়া থাকে না। পর্দার আড়ালে তাদেরও লড়তে হয় সমাজের হাজারো নীতি-পুলিশের সঙ্গে। বিশেষ করে নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বয়স, বিয়ে এবং মাতৃত্ব নিয়ে জনমানসে কৌতূহলের অন্ত নেই। এই মুহূর্তে বাংলা থিয়েটার ও সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত (Sohini Sengupta) এবং তার স্বামী অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক (Saptarshi Moulik) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশাল চর্চার বিষয়। ট্রোলিং, বডি শেমিং আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পাহাড় ডিঙিয়ে তারা কীভাবে আজ এক আদর্শ দম্পতি, সেই গল্পই উঠে এল আজকের প্রতিবেদনে।
সোহিনী এবং সপ্তর্ষির সম্পর্কের শুরু থেকেই সমাজ বাঁকা চোখে তাকিয়েছিল। কারণ? তাদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ১৪ বছর। যখন তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, তখন নেটিজেনদের একাংশ তাদের ‘দিদি-ভাইয়ের সম্পর্ক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। অনেকেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, এই অসম বিয়ে বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু আজ ১৩ বছর পর, সেই সব সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন যে, মানসিক মিল আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাই একটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সপ্তর্ষি সবসময়ই সোহিনীকে তার মেন্টর এবং পরম বন্ধু হিসেবে দেখে এসেছেন, আর সোহিনীও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন পাহাড়ের মতো।
সোহিনী সেনগুপ্তকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খায়, তা হলো—”বিয়ের এত বছর হয়ে গেল, তবুও কেন মা হলেন না?” আমাদের সমাজে আজও মনে করা হয়, একজন নারীর জীবনের পূর্ণতা কেবল মাতৃত্বেই। সোহিনীর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি আরও তিক্ত রূপ নেয় যখন তার শারীরিক গঠন বা ওজন নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন যে, অতিরিক্ত ওজনের কারণেই হয়তো তিনি মা হতে পারছেন না। তবে এই সমস্ত ট্রোলিংয়ের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন এই দম্পতি। সোহিনী এবং সপ্তর্ষি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘বায়োলজিক্যাল সন্তান না নেওয়া আমাদের একার বা কারোর ব্যক্তিগত অক্ষমতা নয়, বরং এটি আমাদের দুজনের একটি অত্যন্ত সচেতন এবং মিলিত সিদ্ধান্ত। জীবনকে উপভোগ করার জন্য বা নিজেদের সম্পূর্ণ ভাবার জন্য আমাদের কোনো তৃতীয় সত্তার প্রয়োজন বোধ হয়নি।’
সোহিনী সেনগুপ্ত কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। কিংবদন্তি রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনও তার বাবার পরিচয় ব্যবহার করে কাজ চাননি। নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি থিয়েটার থেকে সিনেমা সবখানে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তার ওজন নিয়ে যারা ট্রোল করেন, তাদের উদ্দেশ্যে সোহিনী সবসময়ই ইতিবাচক। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিনয় ক্ষমতা শরীরের মাপে নয়, বরং প্রতিভায় থাকে। বডি শেমিং তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করার বদলে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একজন নারী মোটা বা রোগা যাই হোক না কেন, তার মেধা আর ব্যক্তিত্বই তার আসল পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ শ্বশুরে-শাশুড়ির আদরের বউ থেকে প্রতারণার অভিযোগে কাঠগড়ায় মিঠি! বর্ষার ষড়’যন্ত্রে তছনছ সব আনন্দ! মিঠির প্রেগন্যান্সি নিয়ে কৃশানুর বাড়িতে তুলকালাম কান্ড!
এই দম্পতির জীবন আমাদের শেখায় যে, সমাজ কী ভাবল তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো আমরা নিজেরা কীভাবে বাঁচতে চাই। মাতৃত্ব কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি একটি পছন্দ। একজন নারী চাইলে সন্তান ছাড়াই সুখে সংসার করতে পারেন এবং সেখানেও তিনি একজন সফল স্ত্রী, কন্যা এবং অভিনেত্রী হতে পারেন।

