বসতে চলেছে বৈঠক! জগদ্ধাত্রী, মিঠিঝোরা, ফুলকির অচলাবস্থা ভেঙে শুটিং শুরু করতে চান পরিচালকরা!

বাঙালি গৃহিণী দর্শকদের কাছে বিনোদন একমাত্র ঠিকানা বাংলা ধারাবাহিক। রান্নাঘর থেকে ড্রয়িং রুম, শাশুড়ি-বউমা সবার মধ্যেই চর্চা চলতি থাকে বাংলা ধারাবাহিক নিয়ে। এই ধারাবাহিকের কাহিনী থেকে শুরু করে ধারাবাহিকের চরিত্র সবকিছু নিয়েই চুল-চেরা বিশ্লেষণ করেন তারা। তবে এবার বাংলার গৃহিণীর মাথায় দেখা গেল চিন্তার ভাঁজ। বন্ধ হচ্ছে ধারাবাহিক। পরিচালক এবং টেকনিশিয়ানদের সমস্যার জেরেই ধারাবাহিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিচালক মন্ডলী।
বর্তমানে বিনোদন জগতের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়। পরিচালকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ডিরেক্টরস গিল্ড। এরপরই ডিরেক্টরস গিল্ডের বৈঠকে বিধায়ক-প্রযোজক-পরিচালক মন্ডলীর আবেদনে কারণে রাহুলের ওপর থেকে নিষধাজ্ঞা তুলে নেয় ডিরেক্টরস গিল্ড। কিন্তু ডিরেক্টরস গোল্ড রাজি হলেও রাহুলের সঙ্গে কাজ করতে নারাজ ফেডারেশন।
ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন পরিচালক হিসাবে নয়, কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসাবে এসভিএফ-এর পুজোর ছবির কাজে যুক্ত করতে পারেন রাহুল। সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছেন টেকনিশিয়ানরা। তবে রাহুল পরিচালক হিসেবে কাজ করলে তার সঙ্গে কাজ করবেন না কেউ। তবে টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতা, অসম্মানজনক আচরণ বরদাস্ত করেননি পরিচালক মন্ডলী। যার ফলে কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হন তারা। অনির্দিষ্টকালের জন্য শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিচালকরা। তারা সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শুটিং করতে ইচ্ছুক নন পরিচালক এবং তারকারা। গতকাল প্রায় ২০০ জনের বেশি পরিচালক সাক্ষর করে সহমত পোষণ করেছেন এই বিষয়ে। তবে, এতদিন বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ রাখা কঠিন।
ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তার সুরাহার জন্য ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যেখানে লেখা আছে, পরিচালকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে টলিপাড়ার সমস্ত শুটিং ফ্লোরের সদস্যদের না আসার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যতদিন না সমস্যা সমাধান হচ্ছে, ততদিন শুটিং বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই ইমেল মারফত টলিপাড়ার ধারাবাহিকের চ্যানেলগুলিকে এই বিষয়ে সমস্ত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যতদিন না সুষ্ঠু কোন সমাধান হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সব কিছু বন্ধ থাকবে। যদিও বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য ভাষার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না।
আরো পড়ুন: বিয়ের মণ্ডপ থেকে পালাল বউ! বড়মার মান রাখতে রোদ্দুর কি বিয়ে করবে ময়নাকে?
আজ সকালেই ফেডারেশনের তরফ থেকে পেশ করা হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তি। যেখানে জানানো হয়েছে “প্রত্যেক সদস্যদের জানানো হচ্ছে, আজ কিছু প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ফেডারেশনকে শেষ করে দিতে, আমাদের সকলের রুজি রুটিকে বিপন্ন করতে এবং গুপী শুটিংকে স্বীকৃতি দিতে তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও মিথ্যা বদনামে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং আমাদের অস্তিত্ব ও পেটের অন্ন যোগানোর কর্মস্থলকে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, আজ আপনারা বিকেল ৪টের সময় টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে অবশ্যই আসুন।” তবে এত সমস্যার মাঝেও অবশেষে দেখা গেল আশার আলো। জানা যাচ্ছে আজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে মিটিং করেছিলেন পরিচালকরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে মিটিংয়ের পর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন “আজকেই দু’ পক্ষ আলোচনা করে বিষয়টা মিটিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে চান তাঁরা।” তাহলে কি অবশেষে শুরু হবে ধারাবাহিকের শুটিং? অপেক্ষায় আছেন দর্শকরা।

