ধোপে টিকল না মামির ষ’ড়যন্ত্র! অতীতের ধাক্কা সামলে মিঠির হাত ধরল কৃশানুর পরিবার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জমজমাট স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিক। মিঠির বিয়ের আসর তখন সরগরম, কিন্তু আনন্দের আবহে বিষ ঢেলে দেন মিঠির মামি। সকলের সামনে তিনি হঠাৎই ফাঁস করে দেন যে কমলিনী এবং স্বতন্ত্রের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এমনকি মিঠি, বুবলাই ও বাবিল যে স্বতন্ত্রের নিজের সন্তান নয়, সেই সত্যটিও তিনি নিষ্ঠুরভাবে প্রকাশ করেন। কৃশানুর বাড়ির লোক এই বিষয়ে কিছুই জানত না, তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা স্তম্ভিত হয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মামি নিজের রূপ বদলে মাখন লাগানোর মতো করে বলতে শুরু করেন যে, কমলিনীর জীবনে অনেক ঝড় বয়ে গেছে এবং স্বতন্ত্র তাকে সেই খারাপ সময় থেকে উদ্ধার করেছেন।

মামি ভেবেছিলেন এই তথ্যে কৃশানুর পরিবার মিঠিকে ছোট করবে, কিন্তু ফল হলো উল্টো। কৃশানুর বাবা অত্যন্ত উদার মনের মানুষ হওয়ায় তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন। কিন্তু মামি দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না। মিঠির বিয়ে ভাঙার জন্য তিনি দ্বিতীয় চালটি চালেন। তিনি সকলের সামনে ইঙ্গিত দেন যে, মিঠির জীবনেও এক বড় দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে।

যদিও কৃশানুর বাবা-মা এই সত্যিটা জানতেন, কিন্তু বাকি আত্মীয়দের মনে চরম কৌতুহল তৈরি হয়। মিঠির মা চাননি সেই পুরনো ক্ষত সবার সামনে আসুক, কিন্তু মামির জেদ এবং অন্যদের কৌতূহলী চাহনি দেখে মিঠি নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় সে সত্যিটা বলবে। সে মনে করে, যে পরিবারের সে অংশ হতে চলেছে, তাদের জানার অধিকার আছে তার অতীতে কী ঘটেছিল।

কৃশানুর বাবা-মা বারবার বারণ করা সত্ত্বেও মিঠি সাহসের সাথে জানায় যে, এক রাতে কিছু দুষ্কৃতী তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং তারপর তার জীবনে এক চরম অঘটন ঘটে। মামি ভেবেছিলেন এই কলঙ্কিত ইতিহাস শুনে সবাই বিয়ে ভেঙে দেবে, কিন্তু ঘটল ঠিক তার বিপরীত। মিঠির এই সততা এবং সাহস দেখে কৃশানুর বাড়ির সকলে তার প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এতে মিঠির কোনো দোষ নেই এবং তারা সম্পূর্ণভাবে মিঠির পাশে আছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘কার ভালো লাগে বাবা-মা আলাদা হয়ে গিয়ে আরও একটা করে বিয়ে করে নিক!’ জ্যোতি বসুর পুত্রবধূ থেকে স্বতন্ত্র ডলি বসু! একা হাতে সন্তান প্রতিপালন! জীবনযুদ্ধে কিভাবে একলা বেঁচে আছে অভিনেত্রী?

অন্যদিকে, মামির এই নীচ মানসিকতা দেখে কৃশানুর মামা-মামিও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মামির নিজের স্বামী ও শাশুড়িও তাকে অপমান করতে ছাড়েন না। সকলের ধিক্কার সইতে না পেরে এবং নিজের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে দেখে মামি রাগে ও অভিমানে বিয়ের আসর ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার চলে যাওয়ায় মিঠির খুশিতে কোনো টান পড়েনি। এবারে দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।

Back to top button