‘কার ভালো লাগে বাবা-মা আলাদা হয়ে গিয়ে আরও একটা করে বিয়ে করে নিক!’ জ্যোতি বসুর পুত্রবধূ থেকে স্বতন্ত্র ডলি বসু! একা হাতে সন্তান প্রতিপালন! জীবনযুদ্ধে কিভাবে একলা বেঁচে আছে অভিনেত্রী?

বিখ্যাত মঞ্চাভিনেত্রী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডলি বসু (Dolly Basu) বাংলা থিয়েটার ও বিনোদন জগতের এক উজ্জ্বল নাম। তিনি মূলত তাঁর শক্তিশালী অভিনয়শৈলী এবং থিয়েটারের প্রতি একনিষ্ঠ নিবেদনের জন্য পরিচিত। তবে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আরও একটি পরিচয় হলো তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কিংবদন্তি সিপিআই(এম) নেতা জ্যোতি বসুর (Jyoti Basu) পুত্রবধূ ছিলেন।

ডলি বসু মূলত থিয়েটারের আঙিনা থেকেই নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। আশির দশক থেকে তিনি কলকাতার গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ‘থিয়েটার প্যাশন’ নামক নাট্যদলের সাথে তাঁর পথচলা অত্যন্ত দীর্ঘ। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু নাটক দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নন, বরং একজন থিয়েটার সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মঞ্চের পাশাপাশি তিনি বড় পর্দা এবং ছোট পর্দাতেও অভিনয় করেছেন। জ্যোতি বসুর পরিবারের পুত্রবধূ হওয়া সত্ত্বেও, ডলি বসু কখনোই নিজের অভিনয়ের পরিচয়ের ওপর রাজনৈতিক ছায়া পড়তে দেননি। তিনি ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবনকে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আলাদা রেখেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী, সেখানেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া, সন্তানদের একার হাতে মানুষ করা সেইসব নিয়েই খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। ডলি বসুর পারিবারিক জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল সন্তানদের সুশৃঙ্খলভাবে বড় করে তোলা। চন্দন বসুর সাথে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরবর্তীকালে বিচ্ছেদের পর, তিনি তাঁর সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব অনেকটা একার কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন। একজন পেশাদার থিয়েটার কর্মী হিসেবে তাঁর সময় ছিল অত্যন্ত সীমিত। রিহার্সাল, শো এবং শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সন্তানদের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কোনো আপস করেননি।

বিচ্ছেদের মতো কঠিন সময়ে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে তিনি কড়া নজর রাখতেন। তাদের প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজনে তিনি সবসময় ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি নিজের থিয়েটারের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। অভিনয়ের বাইরেও ডলি বসু বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং থিয়েটার থেরাপির মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব গঠনের কাজে তিনি সক্রিয়। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা এবং রুচিশীল জীবনবোধ তাঁকে বাঙালি সংস্কৃতিমনস্ক দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ দেওয়াল জুড়ে দিতির নিখোঁজ সংবাদ! পুলস্ত্যর শেষ চালে গোরার মনে বাসা বাঁধলো নতুন ভয়! কি করতে চলেছে গোরা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে জ্যোতি বসু সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তবে তিনি সবসময়ই সেই নিয়ে নীরবতা পালন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জ্যোতি বসু ছিলেন এক হিমালয়সম ব্যক্তিত্ব, এবং তাঁর পরিবারের অন্দরের খবর জানার জন্য সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল অপরিসীম। কিন্তু ডলি বসু সবসময়ই সেই কৌতূহল থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। পারিবারিক সম্পর্ক বা ঘরের কথা জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় নয়। জ্যোতি বসুর মতো একজন নেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুলে কোনো বিতর্ক তৈরি হোক, তা তিনি কখনোই চাননি। ডলি বসুর এই নীরবতাকে অনেক বিশ্লেষক ‘মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে না দেখে, বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা হিসেবে দেখেন।

Back to top button