কমলিনী-স্বতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বেঁকে বসলো কৃশানুর পরিবার! আ’গুনে ঘি দিতে মিঠির সর্বনাশের ফন্দি আঁটলো বর্ষা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

টানটান উত্তেজনা পর্ব চলছে স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা ধারাবাহিকে (Chirosokha)। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই কৃশানু উপস্থিত হয়। উৎসবের ভিড়ে মিঠিকে দেখতে না পেয়ে সে ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং সবার আগে মিঠিকে খুঁজতে শুরু করে। স্ত্রীর প্রতি কৃশানুর এই গভীর অনুরাগ দেখে বাড়ির সবাই তাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা ও ইয়ার্কি করতে শুরু করে। কৃশানু যেন মিঠিকে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করতে পারছে না সবাই এই নিয়ে হাসাহাসি করলেও কৃশানুর মনে ছিল অস্থিরতা।
ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হয় বর্ষা এবং মিঠির মামি। স্বভাবসুলভ কুটিলতা আর বাঁকা কথায় পটু এই দুই নারী কৃশানুকে দেখা মাত্রই মিঠিকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য ছুড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর মিঠি যখন সেখানে এসে পৌঁছায়, তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সে ভেতরে ভেতরে কতটা বিপর্যস্ত। তার শরীর একেবারেই ভালো ছিল না, দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক ধকল তার ওপর জেঁকে বসেছিল।
মিঠির শারীরিক অবস্থা দেখে কৃশানু অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে এবং বারবার তাকে রক্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো টেস্ট করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এদিকে বর্ষা আগ বাড়িয়ে বলে দেয় যে মিঠির বারবার বমি হচ্ছে এবং প্রবল মাথা ঘোরার সমস্যা কিছুতেই কমছে না। এ কথা শুনে কৃশানুর মনে অজানা ভয় দানা বাঁধে এবং সে মিঠির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে। সে বারবার ডাক্তার দেখানোর কথা বললেও কমলিনী বা মিঠি কেউই কেন যেন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইছিল না, যা কৃশানুকে ভীষণভাবে আহত করে। তাকে শান্ত করার জন্য মিঠি শেষমেশ টেস্ট করানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও হঠাৎ করেই আবার তার মাথা ঘুরে যায়, যা দেখে কৃশানু কোনোভাবেই নিশ্চিন্ত হতে পারছিল না।
নাটকীয়তা আরও বাড়ে যখন কৃশানুর বাবা-মা এবং মামা-মামি সশরীরে সেখানে এসে উপস্থিত হন। বাড়ির সকলে তাদের আদর-যত্ন আর আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু কৃশানুর বাড়ির লোকজনের মূল আগ্রহ ছিল মিঠির ওপর। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল বাড়ির নতুন বউকে দেখার জন্য। এদিকে সকলে সবার সাথে আলাপ-পরিচয় পর্ব সারতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ বিপদের মুখে প্রকাশ পেল গোরার রুদ্ররূপ! ম’রণফাঁদ থেকে দিতিকে উদ্ধার করে পুলস্ত্যেকে উচিত শিক্ষা দিলো সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
যখন সবাই মিলে হাসিখুশি গল্পগুজবে ব্যস্ত এবং উৎসবের মেজাজ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক চরম আঘাত হানে মিঠির মামি। কুটিল হাসির আড়ালে তিনি হঠাৎ করেই সবার সামনে ঘোষণা করেন যে স্বতন্ত্র আসলে মিঠির নিজের বাবা নন। এই একটি বাক্য যেন পুরো উৎসব প্রাঙ্গণে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ে। চারদিকের হইচই নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে যায় এবং এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত সকলের মনে প্রশ্ন তোলে। দেখা যাক এবারে কি হয় আগামী পর্বে।

