ডাক্তারি রিপোর্টে লুকিয়ে কোন রহস্য? স্বতন্ত্রের দেওয়া নিরাপত্তা কি পারবে মিঠিকে বর্ষার হাত থেকে বাঁচাতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকে বর্তমানে দেখানো হচ্ছে, পারিবারিক অশান্তি কিছুটা স্তিমিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র মিঠির জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় এক পরিচিতের বাড়িতে মিঠির থাকার জায়গা ঠিক হয়। স্বতন্ত্র আশ্বস্ত করেন যে সেখানে মিঠির কোনো অসুবিধা হবে না এবং মিঠির মানসিক শান্তির জন্য কমলিনীও তার সাথে থাকতে পারবে। আপাতদৃষ্টিতে বাইরে সবকিছু গুছিয়ে উঠলেও মিঠির মনের ভেতরটা ছিল প্রবল অশান্ত।
সবাই যখন মিঠির ভবিষ্যৎ নিয়ে এত চিন্তিত, তখন তার অপরাধবোধ আরও বেড়ে যায়। একের পর এক মিথ্যার জালে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা মিঠি আর মেনে নিতে পারছে না। বিশেষ করে কৃশানুর সরল বিশ্বাস আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মিঠির মনে হচ্ছে, সত্যটা বলে দিলেই হয়তো এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। নিজের গোপন কথা লুকিয়ে রাখা আর কৃশানুর সাথে এই লুকোচুরি খেলা তার শান্তি কেড়ে নিয়েছে। এক বুক অস্বস্তি আর ভয় নিয়ে সে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেও, ফেলে আসা মিথ্যাগুলো তাকে বারবার পিছু টানছে।
কমলিনী মিঠির মনের অবস্থা বুঝতে পারেন। তিনি মিঠিকে বোঝান যে, যেহেতু সে এই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই তাকে এখন নিজের শরীরের যত্ন নিতেই হবে। অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মিঠিকেও শান্ত ও সুস্থ থাকতে হবে। মায়ের কথায় মিঠি কিছুটা শান্ত হয় এবং নিজেকে ও সন্তানকে সুস্থ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
মা ও মেয়ে যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল, ঠিক তখনই চা দেওয়ার অছিলায় ঘরে ঢোকে বর্ষা। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের কথা আড়ি পেতে শোনা। এসেই সে মিঠির খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বাঁকা মন্তব্য শুরু করলে মিঠি তাকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, বর্ষা যেন তার ব্যক্তিগত জীবন বা পড়াশোনা নিয়ে মাথা না ঘামায়।
আরও পড়ুনঃ হাতের নাগালে এসেও ফস্কালো সুযোগ! রূপকে দা’হ করে পুলস্ত্যর পরিকল্পনায় ছাই ঢেলে দিল গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরের দিন স্বতন্ত্র ডাক্তারের চেম্বার থেকে মিঠির রিপোর্ট নিয়ে আসেন। রিপোর্ট নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি সবাইকে কমলিনীর ঘরে ডাকেন। বর্ষা বুঝতে পারে যে নিশ্চয়ই কোনো বড় গোপন কথা হতে চলেছে। সে লুকিয়ে আড়ালে গিয়ে শোনার চেষ্টা করলেও তাদের গোপনীয়তার কারণে কিছুই উদ্ধার করতে পারে না। ডাক্তার কিছু রিপোর্ট দিলেও ইউরিন টেস্টের রিপোর্ট তখনও না আসায় মিঠি ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। পরিবেশ হালকা করতে স্বতন্ত্র নিজের ইনস্টিটিউটের গল্প শুরু করলেও বর্ষার নজর ছিল অন্য জায়গায়। সে লক্ষ্য করে কমলিনী স্বতন্ত্রের আনা খামটি কোথায় লুকিয়ে রাখছে। বর্ষা মনে মনে ঠিক করে নেয়, সুযোগ বুঝে আলমারি থেকে সেই খামটি সে হাতিয়ে নেবে এবং মিঠির বিরুদ্ধে নিজের চূড়ান্ত চালটি চালবে। এবারে দেখার অপেক্ষা আগামী পর্বে কি হয়।

