‘কাজের ভয়ে ওখানে যেতে বাধ্য হতাম আমরা, নইলে…’ ‘শিল্পীরা নাকি পল্টিবাজ? জনতাও তো পল্টিবাজ!’ টলিউডের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!

ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এক অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘এক আকাশের নিচে’, ‘জন্মভূমি’, ‘মা’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিয়াল ও ‘আলো’, ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’-এর মতো সিনেমা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু অভিনয় নয়, তিনি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। সম্প্রতি নিজের আগামী রাজনৈতিক সিনেমা ‘হীরকরানীর দেশে’-র ঘোষণা উপলক্ষে একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকারে টলিউড এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই স্পষ্টবক্তা অভিনেতা।

সাক্ষাৎকারে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় টলিউডের শিল্পীদের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ সৃষ্টি করার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি জানান, ২১শে জুলাইয়ের মতো বড় রাজনৈতিক মঞ্চে বহু শিল্পীকে তাদের নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, কেবল কাজ হারানোর ভয়ে একপ্রকার জোর করে নিয়ে যাওয়া হতো। তিনি নিজের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৫ বছরে তিনি মাত্র একবার সেই মঞ্চে গিয়েছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে কখনোই কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা, পুরস্কার বা ‘শ্রী’ উপাধি চাননি। তাঁর মতে, শিল্পীদের ওপর সাধারণ মানুষ আজ ক্ষিপ্ত হলেও অনেক শিল্পীই আসলে সেখানে পরিস্থিতির শিকার ও নিরুপায় ছিলেন।

অতীতে কেন শিল্পীরা এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি, সেই বিষয়েও যুক্তি দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, এর আগে টলিউডের পরিবেশ এমন ছিল যে সরকারের বিরুদ্ধে বা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বললে কাজ চলে যাওয়ার সরাসরি ভয় থাকত। একটি সাধারণ মানুষের পুরো সংসার যেখানে অভিনয়ের আয়ের ওপর নির্ভর করে, সেখানে কাজ হারানোর ভয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে চুপ ছিলেন এবং দিনের পর দিন এই ভুল পরিস্থিতিকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে টলিউডে কাজের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন ও নিরাপদ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

টলিউড ফোরাম ও ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ নিয়েও মুখ খুলেছেন ভাস্বর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বরূপ বিশ্বাস কোনো অভিনেতা, মেকআপ আর্টিস্ট বা ট্রলি বয় না হওয়া সত্ত্বেও কেন আর্টিস্ট ফোরামের বিভিন্ন সভা ও রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মরণ সভায় তাকে সামনে ঠেলে দেওয়া হতো। পাশাপাশি অতীতের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র যখনই নিজের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অথচ আজ পরিস্থিতি বদলানোর পর সেই মানুষগুলোই আবার ভিন্ন কথা বলছেন। আগের তুলনায় বর্তমানে আর্টিস্ট ফোরামের ইমেল আদান-প্রদান ও কাজের প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ ‘তখনও ঋতুপর্ণা এতটা এন্ট্রি নেয়নি…আমার ৫টি সিনেমা চলে যায় ঋতুপর্ণার ঝুলিতে!’ কেরিয়ারের মধ্যগগনে হারিয়ে গেলেন ‘ছোট বউ’? প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে আর জুটি বাধা হলো না দেবিকা মুখার্জির! মুখ খুললেন অভিনেত্রী!

অভিনেতা তাঁর আগামী ছবি ‘হীরকরানীর দেশে’ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান। আগামী দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে চলা এই সিনেমাটি মূলত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারী শক্তির উদযাপনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। ছবিতে ‘হীরকরানী’ চরিত্রটি বাস্তবে কাকে নির্দেশ করছে বা ভাস্বর নিজে কী চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা পরিচালকের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি খোলসা করেননি। তবে বর্তমানে কলকাতার বাইরে থেকেও নতুন নতুন প্রযোজকেরা যেভাবে বাংলায় টাকা বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসছেন, তাতে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আরও অনেক ভালো হবে বলে আশাবাদী এই অভিনেতা।

Back to top button