সত্যিটা জেনে উৎসবের বিপক্ষে চলে গেল রাজনাথ! দিব্যার কথায় ফেঁসে গেল বৈদেহি!

অন্যের জন্য ফাঁদ পাততে গিয়ে সেই ফাঁদে নিজেই পড়ে গেল বৈদেহি। আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল পাপ কখনো চেপে রাখা যায় না। এই মুহূর্তে জি বাংলার (Zee Bangla) সব থেকে সেরা ধারাবাহিক বলতে যার কথা প্রথমেই মাথায় আসে সে হলো জগদ্ধাত্রী (Jagaddhatri)। এই ধারাবাহিকের নায়িকার দমদার অ্যাকশন, রহস্য রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ গল্প, নায়ক নায়িকার কেমিস্ট্রি সবকিছুই মন কেড়ে নিয়েছে দর্শকমহলের। টিআরপিতে বেঙ্গল টপারের জায়গা দখল করে রয়েছে এই মেগা।

ধারাবাহিকের বর্তমান প্লট অনুযায়ী, গোটা মুখার্জী পরিবার বর্তমানে চেষ্টা করে চলেছে উৎসবকে জেল থেকে বের করে আনার। আর অন্যদিকে কৌশিকী ও জগদ্ধাত্রী চেষ্টা করছে কিভাবে সত্যিটা সামনে এনে উৎসবকে তার করা অপরাধের প্রাপ্য শাস্তি পাইয়ে দেওয়া যায়। তারা দুজন সব সময় সৎ এবং নিষ্ঠার পথই অনুসরণ করে এসেছে তাই এই মুহূর্তে যখন তাদের বাড়ির ছেলেকেই যখন শাস্তি দেওয়ার পালা এসেছে তখনও তারা তাদের ন্যায় নীতি থেকে এক চুলও সরেনি।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, রাজনাথ বৈদেহিকে জিজ্ঞাসা করে উপল মৈত্রের কথা। বৈদেহি বারবার বিষয়টাকে এড়িয়ে যায়। তখন রাজনাথ বুঝে যায় উৎসব সত্যি করেই ওই অন্যায়গুলো করেছে। বাবা হয়ে নিজের ছেলের এত বড় অন্যায় মেনে নিতে পারেনা রাজনাথ। সে বৈদেহিকে বলে, আজ তার প্রশ্রয় পেয়েই উৎসব এতবার বেড়েছে। এরপর উপলের এর সাথে বৈদেহি কিভাবে পরিচিত এবং তাদের মধ্যে কি সম্পর্ক এইসব জিজ্ঞাসা করায় বৈদেহি আরো বেশি ঘাবড়ে যায়। রাজনাথ বলে, তার এখন লজ্জা করছে নিজের ছেলের কথা ভেবে। বৈদেহি বারবার বোঝায় যে উৎসব যাই করে থাকুক না কেন সে তাদের ছেলে তাই ওকে বাঁচাতেই হবে। ঠিক তখন এসে এখানে চলে আসে কৌশিকী।

বৈদেহি তার আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে কৌশিকী বলে, “তুমি দিব্যা সেনের সাথে ফোনে কথা বলছিলে? আমাকে সাধু বটব্যাল এর ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন করে এটা জানালো। একবার ভুল করেছ দ্বিতীয়বার এক ভুল করতে যেও না। ওই মহিলা কিন্তু সাংঘাতিক। ও নিজেই এখন বিপদে পড়েছে তাই তোমাকে ইউজ করার চেষ্টা করছে। ওর বিপদ কেটে গেলে ও তোমাকেও ছুঁড়ে ফেলে দেবে।” বৈদেহি বলে সে নিজের ছেলের এমন অবস্থা দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারছে না। তখন কৌশিকী বলে, উৎসব যখন এত অন্যায় করেছিল তখন তো চুপ করে বসেছিল সে তাহলে এখন কেন পারছে না?

আরো পড়ুন: প্লেটে খাবার পড়লেই ঝামেলা! ডাইনিং টেবিলে বসতেই মুখার্জি পরিবারের যুদ্ধ দেখে হেসে লুটোপুটি দর্শক

এরপর উৎসবের সামনে নিয়ে আসা হয় উপল মৈত্রকে। তাকে দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যায় উৎসব কিন্তু পরে সে মনে করে এই লোকটা তোর সবকিছুই ভুলে যায় তাই ও হয়তো কিছুই বলে উঠতে পারবে না। কিন্তু উৎসবকে দেখেই সবকিছু মনে পড়ে যায় উপলের। সে উৎসবের সামনে গিয়ে বলে, “এইতো তুমি উৎসব মুখার্জী। তুমি তো বলেছিলে গুলিটা করতে। আমি কিন্তু মারতে চাইনি। তুমি আমাকে জোর করেছিলে।” এরপর সেখানে কৌশিকীকে দেখে আরো ভেঙে পড়ে উপল। সে বলে, “বিশ্বাস করো আমি তোমাকে গুলি করতে চাইনি। ওরা আমায় ইলেকট্রিক শক দিয়েছিল। আমার শরীরটা কাঁপছিল। আর উৎসব আমায় বারবার বলছিল গুলি করার জন্য। কিন্তু আমি চাইনি। আমি আর শাস্তি পেতে পারছি না।” কৌশিকী তাকে বলে, তার আর কোন শাস্তি হবে না কারণ সে কোন অপরাধ করেনি। এ সমস্ত ঘটনাটা রেকর্ড করা হয় যাতে কোর্টে সাক্ষী হিসেবে এটাকে পেশ করা যায়। উৎসব বুঝতে পারে তার বাঁচার আর কোন উপায় নেই কারণ সব ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এরপর সে দিদির কাছে কান্নাকাটি করতে থাকে কিন্তু কৌশিকী আর কোনভাবেই তার ভাইকে সুযোগ দেবে না।

Back to top button