পর্ণাকে বাঁচাতে তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো কৃষ্ণা, কায়দা করে অয়নকে দিয়েই সত্যি বলালো সে!

বর্তমানে জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় একেবারেh রমরমিয়ে চলছে নিম ফুলের মধু (Neem Fuler Modhu) ধারাবাহিকটি। এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে এই মেগা যে মাসের পর মাস টিআরপি তাহিকার শীর্ষে থাকা জগদ্ধাত্রীকে সরিয়ে এই নিয়ে পরপর দুই সপ্তাহ বেঙ্গল টপারের জায়গা জায়গা দখল করে রেখেছে এই মেগা। এই ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তার একটি অন্যতম কারণ হলো নায়িকা পর্ণা। প্রতিটি পর্বে নিজের বুদ্ধি দিয়ে বাজিমাত করেছে নায়িকা।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, দত্ত বাড়ির বড় ছেলে অয়ন আর তার স্ত্রী মৌমিতা মায়ের সামনেই নিজেদের জীবিত বাবার শ্রাদ্ধ করতে শুরু করে। এই এত বড় অনাচার কিছুতেই সহ্য করতে পারছিল না পর্ণা। অয়ন সৃজনের টাকা জালিয়াতি করে চুরি করে আর সেই টাকা দিয়ে এসব কাণ্ড ঘটায়। তার অয়নকে এর উচিত শিক্ষা দিতে নিজেই একটা পরিকল্পনা করে পর্ণা। সে আর তার জেঠুর অসহায় মুখ দেখতে পারছিল না। পর্ণা বাড়িতে পুলিশ ডেকে আনে। লটারির কর্তৃপক্ষ সাজিয়ে নিজের অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে আসে। ততক্ষণে টাকা সরিয়ে দিয়ে বেশ শান্তিতে থাকে অয়ন।

তবে খুব বেশিক্ষণ এই শান্তি বজায় রাখতে পারলো না অয়ন। সে হয়তো ভেবেছিল টাকাগুলো লুকিয়ে ফেললে আর কেউ সেগুলো উদ্ধার করতে পারবে না কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণিত করলো পর্ণা। ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, আবার শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে অয়ন। নাচতে নাচতে ধুতিতে পা আটকে তুলসী মঞ্চে গিয়ে ধাক্কা খায় সে। এই ঘটনায় বেশ চমকে যায় মৌমিতা। অয়নও সাবধানে সেখান থেকে সরে আসে। সবটা দেখে পর্ণা বুঝে যায়, ঐ তুলসী মঞ্চের নিচে রয়েছে সমস্ত টাকা। সেই কথা সবার সামনে বলতেই ভয় পেয়ে যায় অয়ন।

পর্ণা তুলসী মঞ্চের দিকে এগোলে তার সামনে এসে দাঁড়ায় অয়ন। সে তার নিজের ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত অব্দি তুলতে যায়। ঠিক তখনই নিজের বৌমার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় কৃষ্ণা। সে অয়নকে বলে, “এত নিচে নেমে গেছিস যে ভাইয়ের পোয়াতি বউয়ের গায়ে হাত তুলতে অবধি বাধলো না? আমাকে চিনিস তো? আমি ভালোর ভালো খারাপের খারাপ। এই হাত দুটো দিয়ে কিন্তু তোকেও আমি মারতে পারি।” এই বলেই তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় কৃষ্ণা। পর্ণা তুলসী মঞ্চের মাটি খুঁড়ে টাকার বান্ডিল বের করে। কিন্তু এটা কিভাবে প্রমাণ করা যাবে যে সমস্ত টাকা সৃজনের? এক্ষেত্রে একটা নতুন বুদ্ধি বের করে পর্ণা। লটারির থেকে আসা লোক গুলো তাদেরকে বলে, যে টিকিটে টাকাটা লেগেছে সেই টিকিটের নাম্বারটা উল্টে দিলেই যে নাম্বারটা আসে সেটাই আসল বিজেতা। মনে মনে ভাবে ওই টিকিটটাই তো সে কেটেছিল তার মানে নিজের হাতেই নিজের সর্বনাশ করলো!

আরো পড়ুন: “তুই প্রেম করছিস তো শুধু এটা বলে দে…” কৌশিকী মুখার্জীর প্রশ্নবাণে বিদ্ধ ‘জগদ্ধাত্রী’ অঙ্কিতা!

এরপর সমস্ত টাকা আবার নিজের কাছেই রাখতে অয়ন সমস্তটা স্বীকার করে। সে জানায় টিকিটটা অদল বদল করেছিল অয়ন। সবটা জানার পর এইবার হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গে পর্ণা। কে বলে যারা এসেছে তারা তার অফিসের সহকর্মী। আর এই গোটাটাই একটা পরিকল্পনা ছিল অয়নের মুখ থেকে সমস্ত সত্যিটা বের করার জন্য। সৃজন খুব খুশি হয়ে যায়, টাকাগুলো পেয়ে। দুজনকে খুশি দেখে কৃষ্ণাও আজ খুব খুশি। পুলিশ অফিসার অয়নকে বলে, পর্ণা নেহা কোন ডায়েরি করেনি তাই তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। নইলে এত বড় প্রতারণার জন্য অনেক শাস্তি হতে পারতো তাদের। পর্ণা আর সৃজন অয়ন মৌমিতাকে শেষ সুযোগ দেয় নিজেদেরকে বদলানোর।

Back to top button