‘উৎসবে মাততে পারব না!’ তিলোত্তমার বিচার চেয়ে পুজোয় বাংলা ছাড়ছেন অপরাজিতা

এ যেন এক অন্যরকম পুজো। চলতি বছর পূজোর আমেজটাই যেন নেই আকাশে বাতাসে। উৎসব পালন করার মেজাজে নেই সাধারণ মানুষ। কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ কাণ্ডের পর ওলট-পালট করে দিয়েছে সকলের জীবন। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে সকলেরই। তাই এ বছর উৎসবের ছবিটা একদম আলাদা হতে চলেছে। গোটা শহর জুড়ে শোকের ছায়া। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সেলিব্রেটিরাও এবারে উৎসব পালন করার মেজাজে নেই, উৎসব থেকে নিজেদের বাইরে রাখতে চাইছেন তারা। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)।
কি বললেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই সময় প্রতিবারই তীর্থযাত্রায় বেরিয়ে পড়েন অপরাজিতা। আগামী সোমবার ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকেও তাই বেরিয়ে পড়বেন শান্তির খোঁজে। চলতি বছর অভিনেত্রী কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানান ‘শিরডি যাব, সেখান থেকে শনি সিগনাপুর যাব, সেখান থেকে যাব ত্রম্বকেশ্বর। এই তিনটে জায়গা হয়ে কলকাতায় আসব। কবে ফিরব এখনও ঠিক করিনি। হাতে সময় আছে, তাই চাইলে অন্য কোথাও চলে যেতে পারি। সেটা এখনও স্থির করিনি। পুজোতে কলকাতায় থাকছি। অক্টোবরের ২ তারিখ থেকে নবরাত্রী শুরু হয়ে যাচ্ছে। সন্ধিপুজো তো আমি নিজে হাতে করি। প্রতিবছর। হোম করি। তবে এটা ঠিক আমি উৎসবে থাকছি না এবার। নিজের জন্য কিছু কিনিনি। বাড়ির কাউকে কিছু দিইনি। ছোটদেরও না। তবে মায়ের পুজো তো আর উৎসব নয়। সেটা নিজের মতো করে শ্রদ্ধা ভরে করব, যেমন এতবছর করে এসেছি।’

পাশাপাশি অভিনেত্রী জানিয়েছেন এ বছর শহরের বুকে যা ঘটে গেল তাতে উৎসবে আনন্দ করার মতো মেজাজ নেই। তিনি নিজেও বিচারের দাবি চেয়ে একাধিকবার পথে নেমেছেন। কাজের পাশাপাশি বিচার চেয়েছেন। কিন্তু উৎসবে হৈ-হুল্লোড় করার মতো মন এবছর আর নেই। তাই এই বছরটা মাতৃ আরাধনার মাধ্যমে কাটাবেন অভিনেত্রী। আলাদা করে কোনো পরিকল্পনা নেই। পুজোতে প্রতিবছর হইহই করে কাটান তিনি পরিবারের সাথে কিন্তু এই বছরের জন্য এসব তোলা থাক।
উল্লেখ্য আরজিকর কাণ্ডে দেড় মাস ধরে একের পর এক মিছিল সমাবেশে সামিল হতে দেখা গিয়েছে টলিউডের একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীকে। বিচারের দাবি চেয়ে গলা ফাটিয়েছেন তারাও। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারাও হেঁটেছে রাতের পর রাত। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে একাধিক সেলিব্রেটিদের। মাননীয়ার কাছে নারী নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছে অনেকেই। কিছুদিন আগেই আরজিকর কান্ডের গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজন মূল অভিযুক্তকে। তবে এখনো সম্পূর্ণ বিচার পাওয়া বাকি।

আরও পড়ুনঃ দিনে দিনে কমছে দিদি নাম্বার ওয়ানে টিআরপি রেটিং, কোন কারণ রয়েছে এর পিছনে?
যাকে হারিয়েছে কলকাতাবাসী তাকে হয়তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না কিন্তু এর পরের থেকে নিজেদের কর্মস্থলে যাতে নারীরা সুরক্ষিত থাকে সেই দিকে কড়া নজর দিতে হবে এমনটাই দাবি জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। নিজের কর্মস্থলেই যদি কেউ সুরক্ষিত না থাকে তাহলে রাস্তাঘাটের ভরসা কেই বা জোগাবে। শুধুমাত্র কলকাতা নয় কলকাতার বাইরেও এমনকি দেশের বাইরে পর্যন্ত আরজিকর কান্ডের প্রতিবাদ মিছিল বেরিয়েছিল। এই একটা ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে তুলেছে, চোখ খুলে দিয়েছে অসংখ্য মানুষের।

