‘মীরার ভালো হওয়া বাকি ছিল, মীরার প্রেম হওয়া বাকি ছিল…’ ‘সন্তানের মতো চরিত্রটাকে গড়েছিলাম, মুহূর্তে সব শেষ…’, চোখের জলে শেষ হল মীরা-অধ্যায়! প্রস্তুত ছিলেন না তন্বী!

টলিউড (Tollywood) তথা বাংলা টেলিভিশনের অতি পরিচিত মুখ তন্বী লাহা রায় (Tonni Laha Roy)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১৪ সালে ‘তুমি রবে নীরবে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এরপর ‘বেণে বউ’, ‘বক্সো বদল’ এবং বিশেষভাবে ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক সমাদৃত হয়। পর্দার বাইরেও তন্বী একজন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও মডেল। ব্যক্তিগত জীবনে সম্প্রতি মাতৃবিয়োগের শোক কাটিয়ে আবারও ছন্দে ফেরার লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। তবে এর মধ্যেই তাঁর বর্তমান প্রজেক্ট ‘চিরদিন তুমি যে আমার’ থেকে আকস্মিক প্রস্থান টলিপাড়ায় নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তন্বী জানান, ‘চিরদিন তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত ‘মীরা’ চরিত্রটি হঠাৎ করেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন যে, মীরা চরিত্রটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতো তিল তিল করে যত্নে গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মতে, মীরার গল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক যেমন তাঁর চরিত্রের আমূল পরিবর্তন বা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম দেখানো তখনও বাকি ছিল। কিন্তু কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই গল্পের ট্র্যাক পরিবর্তনের কারণ দেখিয়ে তাঁকে জানানো হয় যে মীরা চরিত্রটি সেখানেই ইতি টানছে।
অভিনয় পেশার গ্ল্যামারের আড়ালে যে চরম অনিশ্চয়তা কাজ করে, তা নিয়ে তন্বী বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, বর্তমান সময়ে ‘কন্ট্রাক্টে’ বা চুক্তিতে থাকা সত্ত্বেও কোনো শিল্পী নিশ্চিত থাকতে পারেন না যে তিনি শেষ পর্যন্ত কাজ করবেন কি না। আজ কাজ আছে তো কাল নেই এই মানসিক চাপের মধ্যেই একজন শিল্পীকে প্রতিদিন শুটিং ফ্লোরে যেতে হয়। গ্ল্যামার দুনিয়ার চকচকে পর্দার আড়ালে অভিনেতাদের যে নিয়মিত ইনসিকিউরিটির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেই কঠিন সত্য তিনি নির্ভয়ে তুলে ধরেন।
ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান মন্দা ও বাজেট কাটছাঁট নিয়ে তন্বী বেশ সরব হয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শিল্পীদের পারিশ্রমিক দিতে না পারার কারণে প্রোডাকশন হাউসগুলো কম বাজেটের নতুন মুখদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে অনেক গুণী ও দক্ষ অভিনেতা কাজ হারিয়ে ঘরে বসে থাকছেন অথবা দ্বিতীয় কোনো পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তন্বী মনে করেন, কাজের মানের চেয়ে অনেক সময় ব্যবসায়িক লাভ বা খরচ কমানোর বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক নেতিবাচক বা খলচরিত্রে অভিনয় করে তন্বী কিছুটা ক্লান্ত। তিনি মজার ছলে বলেন, ‘প্রতিদিন বিরিয়ানি খেতে ভালো লাগে না, এবার একটু ডাল-ভাত খেতে ইচ্ছে করছে।’ তিনি নিজেকে এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে বা বড় পর্দায় পজিটিভ রোলে দেখতে চান। পাশাপাশি, কাজের সুযোগ কমলে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে নিজের পিআর স্কিল বাড়ানো এবং নতুন প্ল্যাটফর্ম যেমন ওয়েব সিরিজে কাজ করার তীব্র ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘মহাভারতের শুটিংয়ের সময় কংগ্রেসের প্রস্তাব এসেছিল!’ ‘এখন আর বৃষ্টি হলে আনন্দ হয় না!’ রাজনীতির অন্দরমহল নিয়ে মুখ খুললেন রূপা গাঙ্গুলী!
ব্যক্তিগত জীবনে তন্বী বর্তমানে নিজের সঙ্গেই সময় কাটাতে ভালোবাসছেন। তিনি মনে করেন, জীবনে নেতিবাচকতা ছড়িয়ে লাভ নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের ব্যবহার এবং ভালো কাজটুকুই টিকে থাকে। এছাড়া অভিনয়ের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে তিনি এখন ইউটিউব ব্লগিং ও সোশ্যাল মিডিয়াকে আয়ের একটি শক্তিশালী বিকল্প পথ বা ‘সেকেন্ড সোর্স অফ ইনকাম’ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, আধুনিক সময়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রতিটি শিল্পীরই এখন প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

