‘মহাভারতের শুটিংয়ের সময় কংগ্রেসের প্রস্তাব এসেছিল!’ ‘এখন আর বৃষ্টি হলে আনন্দ হয় না!’ রাজনীতির অন্দরমহল নিয়ে মুখ খুললেন রূপা গাঙ্গুলী!

পর্দায় তিনি ছিলেন তেজস্বিনী দ্রৌপদী, আর বাস্তবে তিনি একজন স্পষ্টবাদী রাজনীতিবিদ। রূপা গাঙ্গুলী (Roopa Ganguly) মানেই যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের লড়াইয়ের নাম। সম্প্রতি একটি পড কাস্ট শোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী তার জীবনের এমন কিছু গোপন সত্য প্রকাশ করেছেন, যা আগে কখনও শোনা যায়নি। আনফিল্টারড এই আড্ডায় তিনি নিজের বর্তমান এবং অতীতকে একসূত্রে গেঁথেছেন।
রূপা গাঙ্গুলীর লক্ষ্য কখনও রুপালী পর্দা ছিল না। জীবনের শুরুতে তিনি চেয়েছিলেন একজন আর্কিটেক্ট বা স্থপতি হতে। নকশার জালে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখলেও নিয়তি তাকে নিয়ে আসে অভিনয়ের আঙিনায়। কিন্তু সেই যে ঘর ছাড়ার শুরু, তারপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আর্কিটেক্ট হওয়ার সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই কি আজ তিনি সমাজ সংস্কারের কাজ করছেন।
রাজনীতির আঙিনায় তার পদার্পণ নিয়ে তিনি এক বড় রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছেন। রূপা জানান, যখন তিনি ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে খ্যাতির তুঙ্গে, তখন খোদ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাকে রাজনীতিতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সেই সময় হোটেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতেন। এমনকি রাজীব গান্ধীর সময়কার সেই প্রস্তাবের কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, যা এতদিন অনেকের কাছেই অজানা ছিল।
তবে বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সক্রিয় সদস্য হলেও এই সফরটা মোটেও দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল ছিল না। রূপার ভাষায়, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল নিছকই এক ‘একদিনের সিদ্ধান্ত’। কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই অনেকটা হুট করেই তিনি এই পথে পা বাড়িয়েছিলেন। একইসঙ্গে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সিস্টেম এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ের ওপরও তিনি আলোকপাত করেছেন, যা দর্শকদের জন্য বেশ চমকপ্রদ।
আরও পড়ুনঃ রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতি! বিধানসভায় পা রাখতেই বড় পদক্ষেপ কোয়েলের! জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নতুন ইনিংস!
জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই শিল্পী জানিয়েছেন, রাজনীতির জটিল জীবন তাকে কতটা বদলে দিয়েছে। এমনকি শীতকালের বৃষ্টির আনন্দও এখন আগের মতো আর তাকে টানে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে প্রকৃতির সামান্য পরিবর্তন বা ঋতুভেদে যে মানসিক প্রশান্তি তিনি খুঁজে পেতেন, আজ রাজনীতির মারপ্যাঁচে তা হারিয়ে গেছে।

