বাংলা সিনেমার “ধন্যি মেয়ে” ! ৮৯ টা বসন্ত পেরিয়েও অভিনয়ে অপরাজেয় অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়!

২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের (Sabitri Chatterjee) জন্মদিন। ১৯৩৭ সালে বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী অভিনেত্রী আজ ২০২৬ সালে ৮৯ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের আঙিনায় নিজের জীবনকে সমর্পণ করেছেন তিনি। দেশভাগ থেকে শুরু করে দারিদ্র্য জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা যেকোনো প্রজন্মের কাছে এক গভীর অনুপ্রেরণা।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জীবন যেন ত্যাগের এক অনন্য উপাখ্যান। পরিবারের কথা ভেবে, আত্মীয়-স্বজনদের দায়িত্ব পালনের তাগিদে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন বা বিয়ের কথা ভাবেননি। নিজের উপার্জনকে সবসময় পরিবারের সদস্যদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু হয়েছিল ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নাটকের মঞ্চে, ‘নতুন ইহুদি’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজও এই বয়সে পৌঁছে তিনি সমান দাপটে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে। যা তাঁর অদম্য জীবনীশক্তির পরিচয় দেয়।

উত্তম কুমারের সঙ্গে সাবিত্রীর রসায়ন ছিল বাংলা সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ‘ভ্রান্তিবিলাস’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘মৌচাক’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘উত্তরায়ণ’-এর মতো কালজয়ী ছবিগুলো আজও বাঙালির ড্রয়িংরুমে জীবন্ত। শুধু উত্তম কুমারই নন, তিনি ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ি সান্যাল, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহারথীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। তাঁর সাবলীল অভিনয়শৈলী কমেডি থেকে সিরিয়াস ড্রামা সবক্ষেত্রেই ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মৃণাল সেনের প্রথম ছবি ‘রাত ভোরে’ কিংবা তপন সিনহার ‘উপহার’ ছবিতে তাঁর কাজ আজও চর্চিত হয়।

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে ২০১৪ সালে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করে। এর আগে ১৯৯৯ সালে তিনি লাভ করেন ‘সংগীত নাটক অকাদেমি’ পুরস্কার। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ (২০১৩), একাধিকবার বিএফজেএ (BFJA) পুরস্কার এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি.লিট উপাধি পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘সবার মুখ রক্ষার খাতিরে বিয়েটা করেছি…ডাক্তার বলেছিল বিয়েটা পেছাও, কথা শুনিনি!’ ‘এখন ইনফেকশনের জ্বালা যন্ত্রণায় ভুগছি!’ একটা বিপদ কাটতে না কাটতেই ফের আরও এক বিপদের মুখোমুখি গায়িকা দেবলীনা নন্দী!

বার্ধক্যের ছাপ পড়লেও সাবিত্রীর মনের সজীবতা বিন্দুমাত্র কমেনি। আজও যখন তিনি সেটে ফেরেন, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন অভিনয়ের জীবন্ত পাঠশালা। জন্মদিনে এই কিংবদন্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আপামর বাঙালি প্রার্থনা করে, তিনি এভাবেই সুস্থ শরীরে দীর্ঘকাল আমাদের সাংস্কৃতিক জগৎকে আলোকিত করে রাখুন।

Back to top button