নতুন বছরের শুরুতেই নক্ষত্র পতন, সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন সুরের সম্রাট উস্তাদ রশিদ খান

প্রত্যেকটি দেশের কিছু নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের জন্য সেই দেশটিকে আর পাঁচটা দেশের মানুষ মনে রাখে। ভারতবর্ষে (India) শাস্ত্রীয় সংগীত তেমনই একটি ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করে চলেছেন হাজার হাজার নক্ষত্র। এবার তাদেরই মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অকাল মৃত্যু ঘটলো।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় জগতকে একা করে দিয়ে প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৬ বছর। গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। হঠাৎ করে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হয়। দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটতে শুরু করে। আর তারপর মঙ্গলবার বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিটে প্রয়াত হলেন তিনি।

১৯৬৮ সালের ১ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বদায়ূঁতে জন্ম গ্রহণ করেন রাশিদ খান। তিনি রামপুর-সাসওয়ান ঘরানার শিল্পী। রাশিদ তালিম নিয়েছেন এই ঘরানারই আর এক দিকপাল উস্তাদ নিসার হুসেন খাঁ-সাহিবের কাছ থেকে। মূলত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গাইলেও ফিউশন বা বলিউড এবং টলিউডের ছবিতে বহু জনপ্রিয় গান গেয়েছেন শিল্পী। তার গানে প্রতিবার মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকমহল।

ঘটনাটি ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিলম্ব না করে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিতরে গিয়ে শিল্পীর খোঁজ নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন হাসপাতালের বাইরে। তার সাথে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।

সেখানে দাঁড়িয়েই সংবাদমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের যদি কিছু বলার থাকে বলুন, তার পর আমি বলব। ওঁর ছেলে রয়েছেন এখানে। ও ভাল গান করে।’’ এর পরেই চিকিৎসক বলেন, ‘‘এত দিন হাসপাতালে থাকার ফলে সংক্রমণ হয়েছিল। ওঁকে ভেন্টিলেশনে পাঠাতে হয়। ওঁকে ‘রিভাইভ’ করতে পারিনি। ৩টে ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।’’ এর পরেই মমতা বলেন, ‘‘রশিদ আমার ভাইয়ের মতো, গঙ্গাসাগর থেকে জয়নগরে গিয়ে ফোন এসেছিল। নবান্নে ফিরে খবর আসে, কিছু একটা হয়েছে। রাশিদ আলি খান বিশ্ববিখ্যাত নাম। ওঁর পরিচয় দিতে হবে না। বাংলাকে ভালবেসে বাংলায় থেকে গিয়েছেন। বিশ্বের সব প্রান্তে গিয়ে প্রচার করেছেন।’’

Back to top button