‘একগাদা গয়না কিনছে, সেই গয়নার ভিডিও মানুষকে দেখাচ্ছে এটা কনটেন্ট? এগুলো নিম্ন রুচির কনটেন্ট, এরা কনটেন্ট বানান জানে?’ অনন্যা গুহ, দেবলীনা নন্দীর নাম না করেই কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন নন্দিনী ভট্টাচার্য?

নন্দিনী ভট্টাচার্য (Nandini Bhattacharjee) হলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় সমাজকর্মী এবং অল বেঙ্গল মেন্স ফোরাম (All Bengal Men’s Forum)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তিনি ভারতে পুরুষদের অধিকার, লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইন এবং মিথ্যা গার্হস্থ্য সহিংসতা বা যৌন হেনস্থার অভিযোগের শিকার পুরুষদের আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রদানের জন্য কাজ করেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নন্দিনী ভট্টাচার্য বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কন্টেন্টের বিষয়বস্তু নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে ‘ডেইলি লাইফ ব্লগিং’-এর নামে যা চলছে, তা আক্ষরিক অর্থেই নিম্নমানের। বিশেষ করে ইনফ্লুয়েন্সাররা কখন কোন গয়না কিনছেন, কত টাকার গয়না কিনছেন বা ব্যক্তিগত জীবনের অতি তুচ্ছ বিষয়গুলো যেভাবে ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরছেন, সেটিকে তিনি কন্টেন্ট হিসেবে মানতেই নারাজ। তাঁর স্পষ্ট কথা, ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর এই ধারা কোনোভাবেই সৃজনশীল বা গঠনমূলক কন্টেন্টের সংজ্ঞায় পড়ে না।

নন্দিনী ভট্টাচার্য রীতিমতো খোঁচা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যারা এই ধরনের ভিডিও বানাচ্ছেন, তারা আদেও ‘কন্টেন্ট’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ বা মাহাত্ম্য জানেন কি না। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় আজ তথাকথিত জনপ্রিয়তার মোহে প্রকৃত সৃজনশীলতা হারিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা বা বিলাসিতাকে কেন্দ্র করে ভিডিও তৈরি করাকে তিনি মেধার অপচয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, যারা এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের পূর্ববর্তী কোনো সৃজনশীল কাজের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান আছে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

এই সংকটের জন্য নন্দিনী কেবল ক্রিয়েটরদেরই নয়, বরং দর্শক সমাজকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে, সমাজ আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমরা ‘নিম্ন মেধার এবং নিম্ন রুচির’ মানুষ তৈরি করছি। এই ধরনের অন্তঃসারশূন্য ভিডিওগুলোতে যখন লক্ষ লক্ষ ভিউজ বা দর্শক দেখা যায়, তখন তা সমাজের সামগ্রিক মননশীলতার অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তোলে। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং ভিউজ-এর এই ইঁদুর দৌড় আদতে উন্নত মানের চিন্তাভাবনা চর্চার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ ভোরের আদিখ্যেতা সহ্য করতে পারছে না কমলিনী! নতুন-ভোরের যুগলবন্দি গান শুনে চোখে জল নায়িকার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

সবশেষে নন্দিনী ভট্টাচার্য বিষয়টিকে একটি জাতীয় লজ্জা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, সারা দেশের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ধরনের ঠুনকো বিষয়কে যেভাবে উপার্জনের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো একটি শক্তিশালী মাধ্যমকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিলাসিতা প্রদর্শনের হাতিয়ার বানিয়ে তোলা এবং সমাজ কর্তৃক সেটিকে গ্রহণ করা আমাদের সাংস্কৃতিক দেউলিয়াপনাকেই প্রকাশ করে। তিনি মনে করেন, মেধা ও রুচির চর্চা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষ্য হতে পারে না।

Back to top button