‘৭৮ টা ঘু’মের ও’ষুধ খেয়ে উনি যেভাবে পরের দিনই উঠে বসলেন অবাক লাগলো…স্বামীর থেকে বেশি রোজগার তাও স্বামীর পায়েই পড়ে থাকবেন! ওনার আত্মসম্মানবোধটা কোথায়?’ দেবলীনা নন্দীর ঘটনা নিয়ে নতুন বিতর্ক! নন্দিনী ভট্টাচার্যের মন্তব্যে উঠল একাধিক প্রশ্ন!

সম্প্রতি গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি, শ্বশুরবাড়ির চাপ এবং মানসিক যন্ত্রণার জেরে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। যদিও সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং বর্তমানে আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবলীনা, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে দেবলীনা নন্দীর ঘটনা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। তিনি একজন সামাজিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত। নন্দিনীর মতে, ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরের দিন দেবলীনা যেভাবে কথা বলেছেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেবলীনাদের মানসিক এবং শারীরিক শক্তি অত্যন্ত বেশি বলেই এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হয়েছে।
নন্দিনী আরও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাথমিকভাবে দেওয়া তথ্য নিয়েও। প্রথমদিকে বলা হয়েছিল, দেবলীনার মায়ের পাশে দেবলীনা ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাঁর ভাই ও দিদি দুজনেই রয়েছেন। নন্দিনীর মতে, এতে বোঝা যায় শুরুতে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামনে আনা হয়েছিল, যা গোটা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠার বক্তব্য প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলেছেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, যদি দেবলীনা সত্যিই স্বামীর থেকে বেশি রোজগার করেন, তাহলে বারবার সেই বাড়িতেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছেন যেখানে তিনি মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। একজন স্বনির্ভর, রোজগেরে মহিলার আত্মসম্মানবোধ নিয়ে এই প্রশ্ন উঠে আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন নন্দিনী। তিনি আরও বলেন, যদি একজন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মহিলা এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, তাহলে যাঁদের নিজের কোনও রোজগার নেই, তাঁদের জন্য পথটা কোথায়।
আরও পড়ুনঃ ‘এতই যদি চিন্তা নিজেই আসতিস দেখতে…ন্যাকামো করতিস না’ দেবলীনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বে ভাঙন! সর্বসমক্ষে অলকানন্দার সঙ্গে বিতর্কে জড়ালেন সায়ক! ‘সুকান্ত প্রেরণা এদেরতো ডেকে আনতে হয়নি!’ অভিনেতাকে পূর্ণ সমর্থন দর্শকদের!
নন্দিনী ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বহু পুরুষও স্ত্রীর চাপে পড়ে শুধুমাত্র সন্তানের কথা ভেবে বাবা-মার থেকে দূরে চলে যান এবং অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক অবসাদে আত্মহননের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই ঘটনাগুলো নিয়ে কখনও এমন আলোড়ন হয় না। পাশাপাশি দেবলীনার পুরুষ বন্ধু সায়ককে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন নিয়েও তিনি বলেন, বন্ধুত্ব থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি একই পরিস্থিতিতে দেবলীনার স্বামীর পাশে কোনও নারী বন্ধু থাকতেন এবং সবকিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতেন, তাহলে সমাজ কি বিষয়টাকে একইভাবে দেখত—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

