টেলিভিশনের রাজশ্রী ভৌমিকই কি নচিকেতার “রাজশ্রী”! গান গাইতে উঠে আসল ‘রাজশ্রী’কে চিনিয়ে দিলেন গায়ক! হতবাক দর্শক!

বাংলা আধুনিক গানের জগতে তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে জীবনমুখী গানের যে জোয়ার এসেছিল, তার মশালধারী ছিলেন নচিকেতা চক্রবর্তী (Nachiketa Chakraborty)। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক লড়াই, মধ্যবিত্তের আবেগ, রাজনীতি আর সমসাময়িক সমাজের অসংগতিগুলো তাঁর কলমে বারবার ধরা দিয়েছে। ‘নীলঞ্জনা’, ‘রাজশ্রী’ কিংবা ‘অনির্বাণ’ তাঁর প্রতিটি চরিত্র যেন শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী ঘর বেঁধে নিয়েছে। শুধু একজন গায়ক হিসেবেই নয়, একজন বলিষ্ঠ গীতিকার এবং সুরকার হিসেবেও নচিকেতা বাংলা সংগীতের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আজও তাঁর গান মানেই তারুণ্যের উন্মাদনা আর প্রতিবাদের ভাষা।
নচিকেতা চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন বরাবরই বর্ণময়। ১৯৬৪ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী স্কুল-কলেজ জীবন থেকেই ছিলেন আপাদমস্তক স্পষ্টবক্তা। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল চরম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যা পরবর্তীকালে তাঁর গানে ফুটে উঠেছে। ১৯৯৩ সালে ‘এই বেশ ভালো আছি’ অ্যালবামের মাধ্যমে তাঁর জয়যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন, তবে তাঁর গানে ফুটে ওঠে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের হাহাকার আর স্বপ্ন। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর সিগনেচার স্টাইল এবং ঝাঁঝালো কণ্ঠ আজও অমলিন।
সম্প্রতি একটি সংগীত অনুষ্ঠানে গান গাইতে উঠে নচিকেতা ফের উসকে দিলেন এক পুরনো বিতর্ক ও কৌতূহল। তাঁর জনপ্রিয় গান ‘রাজশ্রী’ নিয়ে শ্রোতাদের মনে প্রশ্নের শেষ নেই। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বর্তমান সময়ের পরিচিত অভিনেত্রী রাজশ্রী, যাঁকে আমরা নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় দেখি। গানের মাঝপথেই হঠাৎই সেই অভিনেত্রীর চোখে জল লক্ষ্য করা যায়। মুহূর্তের মধ্যে দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয় তবে কি এই অভিনেত্রীই সেই গানের অনুপ্রেরণা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় চমক? দীর্ঘদিনের রহস্য উসকে দিয়ে গায়ক মঞ্চে তৈরি করেন এক টানটান সাসপেন্স।
উপস্থিত দর্শকরা তখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, আজ হয়তো কয়েক দশকের পুরনো সেই রহস্যের যবনিকা পতন ঘটবে। টিভির পর্দার জনপ্রিয় মুখ রাজশ্রী নিজেও গায়কের এই বিশেষ মন্তব্যে খানিকটা অপ্রস্তুত ও আনন্দিত বোধ করেন। নচিকেতা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রহস্যের জাল বুনতে থাকেন, যেন মনে হচ্ছিল এবার তিনি সবার সামনে আসল রাজশ্রীর পরিচয় ফাঁস করতে চলেছেন। গোটা হল জুড়ে তখন পিনপতন নিস্তব্ধতা, সবাই অপেক্ষা করছেন কবীর সুমনের সমসাময়িক এই কিংবদন্তি শিল্পীর শেষ ঘোষণার জন্য।
আরও পড়ুনঃ ‘ভালোবাসার জন্য এত কষ্ট সয়েছি…ব্যথার ট্যাবলেট খেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছি!’ স্বামীর একাধিক ব্যঙ্গার্থক উক্তি, টিটকিরি সয়েও মুখে হাসি! জীবনের চরম যন্ত্র’ণার মুহূর্ত নিয়ে অকপটে দেবলীনা নন্দী!
তবে সব শেষে নচিকেতা তাঁর রহস্যময় হাসিতেই বাজিমাত করলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পৌঁছেও তিনি স্পষ্ট করে জানালেন না আসলে কে সেই গানের ‘রাজশ্রী’। গায়ক সাফ জানিয়ে দিলেন, কিছু স্মৃতি ব্যক্তিগত থাকাই ভালো। রাজশ্রী কে তা তিনি একেবারে প্রকাশ করতে চাননি। রহস্যকে রহস্যের জায়গাতেই রেখে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ‘রাজশ্রী’ কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং হাজার হাজার অনুরাগীর মনে থাকা এক মানসী প্রতিমা। ফলে অনুষ্ঠান শেষ হলেও অনুরাগীদের মনে সেই অমীমাংসিত প্রশ্নটি থেকেই গেল আসল রাজশ্রী তবে কে?

