‘আমার তো মা নেই, মা চলে যাওয়ার পর অন্নপূর্ণাই আমার মা…’ মা অন্নপূর্ণার রূপে ভক্তদের মুগ্ধ করলেন কনীনিকা ব্যানার্জি! আবেগঘন অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন অভিনেত্রী!

১২ জুলাই কলকাতার কালীঘাট হাজরার মহানায়ক উত্তম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৃত্যনাট্য ‘কল্যাণ সুন্দরিকা’। এই প্রযোজনায় দ্বিতীয়বার মা অন্নপূর্ণার রূপে মঞ্চে ওঠেন অভিনেত্রী। দর্শকে ভরা প্রেক্ষাগৃহে তাঁর পরিবেশনা প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে কনীনিকা জানান, এই চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর কাছে শুধু একটি পারফরম্যান্স নয়, বরং গভীর আবেগের বিষয়।
অভিনেত্রী বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই দেবী অন্নপূর্ণাকে তিনি নিজের মায়ের আসনে বসিয়েছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করেন এবং বাড়িতেও নিয়ম করে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করেন। মঞ্চে ওঠার আগেও তিনি দেবীর আশীর্বাদ নিয়েই নিজের পরিবেশনা শুরু করেছিলেন বলে জানান।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিল্পীর প্রশংসাও করেন কনীনিকা। তাঁর মতে, মঞ্চে পারফর্ম করার সময় প্রত্যেকের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করা যায়, আর সেই কারণেই সকলের পরিবেশনা এত সুন্দর হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রযোজনার উদ্যোক্তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, স্পনসরের উপর নির্ভর না করে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়েই এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমন্ত্রণ এলে এই শো নিয়ে বাইরে যাওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের।

অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছে কনীনিকার মেয়ে কিয়াও। পুরো এক ঘণ্টার পরিবেশনা মন দিয়ে দেখার পাশাপাশি মায়ের নাচের ভিডিওও রেকর্ড করেছে সে। অভিনেত্রীর কথায়, টানা দ্বিতীয় বছর কিয়া এই অনুষ্ঠান দেখল এবং খুব আনন্দ পেয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, এমন অনুষ্ঠান শিশুদের শুধু বিনোদনই দেয় না, পাশাপাশি পুরাণ, দেবদেবী এবং ভারতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কেও সহজভাবে জানার সুযোগ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘ওর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছে কখনো?’ ‘জানতে চেয়েছে মাসি কেমন আছে? বাচ্চাটা আর সদ্য স্বামীহারা মেয়েটা কেমন আছে?’ ‘রাহুলকে ব্যবহার? ও তো নিজেই…’ ‘ছবিওয়ালা’র বিতর্কে বি’স্ফোরক দেবলীনা দত্ত!
দর্শকদের ভালোবাসা এবং মা অন্নপূর্ণার রূপে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে কৃতজ্ঞ কনীনিকা। তিনি মনে করেন, এই বয়সেও মঞ্চে নাচতে পারা এবং অন্য শিল্পীদের সঙ্গে সমান তালে পারফর্ম করতে পারা ঈশ্বরের আশীর্বাদ। ৪০ পেরিয়ে জীবন অনেক বদলেছে, সংসার এবং রান্নাঘরের দায়িত্ব বেড়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। তবু মঞ্চই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা, তাই যতদিন সম্ভব এই নৃত্যনাট্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তিনি।

