‘প্রবাহর অ’ন্তর্বাস কাচা থেকে তিন বেলা রান্না, সবটাই আমার বোন করতো…’, শ্বশুরবাড়িতে কাজের লোকের মতন আচরণ! ‘প্রবাহর থেকে আমার বোনের রোজগার বেশ’- দেবলীনার টাকার উপরেও ভাগ বসাতো শ্বশুর শাশুড়ি?

বর্তমানে সংগীতশিল্পী (Singer) ও সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দীকে (Debolina Nandy) ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চরম সংকটের কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। নতুন বছরের শুরুতেই তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের মানসিক যন্ত্রণা ও পারিবারিক অশান্তির কথা তুলে ধরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যা গায়িকার অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। জানা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর স্বামী বিমানচালক প্রবাহ নন্দী এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তিনি দীর্ঘকাল ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
গত বছর তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ধূমধাম জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন দুজনে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নাকি শুরু হয়েছিল অশান্তি। বিশেষ করে নিজের মা’কে নিয়ে চলতে চাওয়ায় এবং পেশাগত ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁকে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দেবলীনা দিদি একাধিক অভিযোগ এনেছেন দেবলীনার শ্বশুর বাড়ির মানুষদের সম্পর্কে।
তিনি দাবি করেছেন যে, বিয়ের পর থেকেই দেবলীনা তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। তাঁর দিদির মতে, দেবলীনা সব সময় তাঁর মা এবং শ্বশুরবাড়ি এই দুই পরিবারকে নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁর মায়ের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতো। এমনকি দেবলীনার মাকে ‘অশিক্ষিত’ বা ‘দেখতে খারাপ’ বলে অপমান করা হয়েছে।
দেবলীনা নন্দীর মা অভিযোগ করেছেন যে, দেবলীনা তাঁর স্বামী প্রবাহর চেয়ে বেশি রোজগার করতেন। দেবলীনার উপার্জিত অর্থ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে অশান্তি হতো। এমনকি, দেবলীনার আয়ের ওপর প্রবাহ এক ধরণের অধিকার খাটানোর চেষ্টা করত। দুজনের একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কোন প্ল্যান হলে প্রবাহ সব সময় নাকি দেবলীনার থেকে টাকা দাবি করত। দেবলীনা সংসারের সমস্ত কাজ করতো। প্রবাহর অন্তর্বাস থেকে শুরু করে তার ইউনিফর্ম ধোঁয়া, রান্নাবান্না সমস্ত দায়িত্ব গায়িকার উপর ছিল। কিন্তু যেহেতু পেশাগত দিক থেকে দেবলীনা একজন গায়িকা তাই জন্য মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ফিরতে রাত হত। তারপরে আর সংসারের কাজ করে তার পক্ষে সম্ভব হতো না, সেই নিয়েও নাকি অশান্তি হতো নিত্যদিন।
আরও পড়ুনঃ বেঁচে যাওয়ায় চরম আফসোস! হাসপাতালে শুয়েও তিনবার আ’ত্মহত্যার চেষ্টা গায়িকার! পাশে নেই স্বামী প্রবাহ!
দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা দাবি করেন যে, দেবলিনা তার নিজের উপার্জনে সংসার চালাতেন। এমনকি তিনি এমন মন্তব্যও করেছেন যে, “প্রবাহর অন্তর্বাসও দেবলীনা কিনে দেয়।” তার দাবি অনুযায়ী, দেবলিনা স্বামীর অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না বরং নিজেই স্বাবলম্বী ছিলেন। দেবলীনার দিদি দাবি করেন দেবলিনা শ্বশুরও তাকে অকথ্য ভাষায় অপমান করত। বাড়ির বউ এত রাত অব্দি বাড়ির বাইরে থাকবে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। দেবলীনা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বা তার স্বামী প্রবাহর পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলেও তার দিদি অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, বিপদের সময় স্বামী বা তার পরিবারের কাউকেই পাশে পাওয়া যায়নি। এবারে দেখা যাক এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায়।

