‘জয় সরকার আমার মতো পরিষ্কার মনের লোক নয়…’ ‘অশান্তি আমাকে ছাড়ে না!’ দীর্ঘদিনের মৌনতা ভেঙে জমে থাকা আক্ষেপ উগরে দিলেন লোপামুদ্রা মিত্র!

বাংলা সঙ্গীত জগতের পাওয়ার হাউস বলা হয় তাঁকে। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি শ্রোতা। কিন্তু সেই দাপুটে গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্রের (Lopamudra Mitra) ভেতরে যে এতোটা হাহাকার, অভিমান এবং দহন লুকিয়ে ছিল, তা হয়তো অতিবড় অনুরাগীও কল্পনা করতে পারেননি। সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে সঞ্চালক অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়ে শিল্পী নিজের জীবনের এমন কিছু অন্ধকার ও বিতর্কিত দিক উন্মোচন করেছেন, যা এখন টলিউড ছাড়িয়ে সঙ্গীত মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই লোপামুদ্রা মিত্র তাঁর স্বামী তথা প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক জয় সরকারকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেন যা শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি সরাসরি বলেন, ‘জয় সরকার আমার মতো পরিষ্কার মনের লোক নয়, ও সবটা বলবে না’। সাধারণত জনসমক্ষে তারকারা নিজেদের দাম্পত্য জীবনকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেন, সেখানে লোপামুদ্রার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় তাঁদের সম্পর্কের ভেতরের কোনো এক জটিল সমীকরণের দিকে। শিল্পী আরও যোগ করেন যে, তাঁর সাথে জয়ের মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই মেলে না, যা ভেতরে ভেতরে এক প্রবল ঝড় তৈরি করে।
পেশাদারী জীবনে হিংসে বা ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যখন তা নিজের ঘরে ঢোকে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়। জয় সরকারের সুরে শুভমিতার গাওয়া আকাশছোঁয়া জনপ্রিয় গান “বৃষ্টি পায়ে পায়ে” নিয়ে শিল্পী এক বিষ্ফোরক তথ্য দেন। তিনি স্বীকার করেন যে, এই গানটি শুভমিতা গাওয়ার পর তিনি এতটাই আহত হয়েছিলেন যে, জয়ের সাথে তাঁর দীর্ঘদিন কথাবার্তা বন্ধ ছিল। নিজের স্বামীর সুরে অন্য কেউ জনপ্রিয় গান গাইছেন এই বিষয়টি একজন শিল্পী হিসেবে লোপামুদ্রার ইগো বা অভিমানকে কতটা নাড়িয়ে দিয়েছিল, তা এই প্রথম প্রকাশ্যে এল।
লোপামুদ্রার ব্যক্তিগত জীবনে বিদ্রোহের সুর অনেক আগে থেকেই ছিল। তিনি জানান, তাঁর কাকা, যাঁর ওপর তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল, তিনি জয় সরকারকে মোটেও সহ্য করতে পারতেন না। ‘জয়কে বিয়ে করাটা কাকা কোনোদিন মেনে নিতে পারেননি’। এমনকি শিল্পী এও ইঙ্গিত দেন যে, জয়ের ওপর তাঁর কাকার এক ধরণের হিংসে কাজ করত। নিজের কাছের মানুষের এই বিরোধিতা এবং পরিবারের ভেতরে চলা এই টানাপোড়েন শিল্পীকে মানসিকভাবে কতটা একা করে দিয়েছিল, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে লোপামুদ্রা মিত্রকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমি জানি না আমি আর কতদিন বাঁচবো’। তিনি স্পষ্ট জানান যে, অশান্তি তাঁর পিছু ছাড়ে না। যখনই তিনি মনে করেন একটু শান্তিতে আছেন, তখনই কোনো না কোনো বড় বিপর্যয় বা অশান্তি এসে হাজির হয়। জীবনের এই অনিশ্চয়তা এবং মানসিক অস্থিরতা তাঁর গানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দুবাইয়ের আতঙ্ক জয় করে দেশের মাটিতে পা রাখলেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী! মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী! স্ত্রী কলকাতায় ফিরতে স্বস্তির নিঃশ্বাস রাজ চক্রবর্তী!
শিল্পীদের আমরা সাধারণত রোমান্টিক বা আদর্শবাদী দৃষ্টিতে দেখি। কিন্তু লোপামুদ্রা এখানে রূঢ় বাস্তববাদী। তিনি সরাসরি বলেন, ‘বেঁচে থাকার জন্য টাকা পয়সাটা ভীষণ প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। ওটা ছাড়া আমি কিচ্ছু করতে পারবো না’। তিনি আরও জানান যে, তিনি মাথায় নয়, বরং পুরোটাই হৃদয়ে চলেন। তাঁর এই আবেগপ্রবণতাই তাঁকে ব্যবসায়িক দিক থেকে এবং পেশাদারী দুনিয়ায় অনেক সময় পিছিয়ে দিয়েছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মাথায় কোনো বুদ্ধি কাজ করে না, যা অনেক সময় লোকে ভুল বোঝে। শিল্পী স্বীকার করেছেন যে, যাঁকে তিনি সত্যিই ভালোবাসেন, তাঁর ওপর তাঁর প্রবল অভিমান হয়, বিরক্তি আসে। সম্পর্কের মধ্যে এই হিংসে এবং ভালোবাসার সংঘাত তাঁর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তিনি জানান যে, তাঁর চারপাশের মানুষেরা তাঁকে সবসময় বুঝতে পারেন না এবং এই না বুঝতে পারার কারণে তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন।

