‘আমি তো এটা চাইনি, কেন আমায় বাঁচানো হলো?’ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে করুণ আর্তনাদ! বেঁচে থাকার ইচ্ছে বিসর্জন দিয়েছেন গায়িকা! দেবলীনার এমন অবস্থায় কি করছেন প্রবাহ?

সোশাল মিডিয়ায় বরাবরই হাসিখুশি এবং আত্মবিশ্বাসী এক মুখ দেবলীনা নন্দী। কিন্তু সেই উজ্জ্বল ফ্রেমের আড়ালে যে গভীর বিষাদ লুকিয়ে ছিল, তা সামনে এল সাম্প্রতিক ঘটনায়। দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন এবং মানসিক অবসাদের চাপে ভেঙে পড়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটেন জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সার। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
বন্ধু অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী এবং এক আপ্তসহায়কের দ্রুত তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে প্রাণে বেঁচে যান দেবলীনা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের মতে বিপন্মুক্ত। তবে হাসপাতালের বেডে শুয়েই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে কাতর আর্তি। তিনি বারবার প্রশ্ন করছেন কেন তাঁকে বাঁচানো হল। তাঁর এই কথাই আরও নাড়িয়ে দিয়েছে অনুরাগীদের মন।
সায়ক চক্রবর্তীর ফেসবুক লাইভে দেবলীনার বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়। দেবলীনা জানান দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আশা করছিলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও ভেবেছিলেন বহুবার। কিন্তু উত্তর না পাওয়ার ভয় এবং জমে থাকা অভিমান তাঁকে আরও একা করে দিয়েছিল। ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসছিল বলেও জানান তিনি।
লাইভে দেবলীনা আরও বলেন তিনি অর্ধেক সিদ্ধান্ত নিতে চাননি। তাঁর কথায় উঠে আসে জীবনের এক গভীর হতাশা। একসময় মা গান আর নিজের জীবনই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভালবাসা। বিয়ের পর সব অগ্রাধিকার বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরেই তিনি ভেঙে পড়েন। এই স্বীকারোক্তি যেন তাঁর অন্তর্দ্বন্দ্বের নগ্ন ছবি তুলে ধরে।
আরও পড়ুনঃ ‘বি’ষ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মা!’ দেবলীনা নন্দীর জীবনের অজানা অধ্যায়! কি হয়েছিল গায়িকার সঙ্গে?
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল গ্ল্যামার জগতের আলো ঝলমলের আড়ালে কতটা একাকীত্ব লুকিয়ে থাকে। মঞ্চের হাসি আর ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস সব সময় বাস্তব জীবনের প্রতিফলন নয়। দেবলীনা নন্দীর এই অভিজ্ঞতা সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মানসিক যন্ত্রণাকে অবহেলা করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

