পাকিস্তানের পাশে বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী? দেশে যুদ্ধকালীন মুহূর্তে মিডিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে কাদের রক্ষা করতে চান অভিনেত্রী?

দেশ উত্তপ্ত। সীমান্তে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। আর এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া যেন রণক্ষেত্র। মুহূর্তে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ভিডিও, ছবি, বক্তব্য—যার একাংশ আদতেই ভুয়ো। একেকটি ‘জ্বলন্ত’ ফুটেজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নিজের ঘরে বসেও যেন যুদ্ধের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। এই অবস্থায় কী সত্যি, আর কী সাজানো—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংবাদ পরিবেশন কি তথ্য দেওয়ার জন্য, না কি টিআরপি বাড়ানোর হাতিয়ার? এই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ, একাংশ সংবাদমাধ্যম যেন এখন নাটকীয়তা ও আবেগের আতিশয্যে ভরপুর রিপোর্টিং-এর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। হেডলাইনের গর্জন, রিপোর্টারের উত্তেজিত গলা, স্টুডিওতে চিৎকার-চেঁচামেচি—সব মিলে এক ধরনের ‘সার্কাস’-এ পরিণত হয়েছে টিভি স্ক্রিন। এই দৃশ্য দেখেই বিরক্ত অনেক দর্শক। আর এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহাও।

শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও টিভি চ্যানেল বা ডিজিটাল মিডিয়া যেন সেনা অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার না করে। কারণ, এর ফলে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই নির্দেশিকা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ার করেন সোনাক্ষী সিনহা। তবে কেবল শেয়ার করেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং নিজের ক্ষোভ উগরে দেন একেবারে সোজাসাপটা ভাষায়।

সোনাক্ষী লিখেছেন, ‘অতিনাটকীয় সব দৃশ্য, একনাগাড়ে শব্দের ঝঙ্কার, চিৎকার আর শুধুই চিৎকার… এসব দেখে আমি ক্লান্ত! আপনারা কী করছেন? নিজের কাজটা করুন। ভগবানের দোহাই, যুদ্ধের খবরকে চাঞ্চল্যকর করে তোলা আর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো বন্ধ করুন।’ তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ তথ্য দেওয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিকে যেন বিনোদনের উপকরণে পরিণত না করা হয়—এই বার্তাই দেন শত্রুঘ্ন কন্যা।

আরও পড়ুনঃ ‘ও আমার মৃ’ত্যু চেয়েছিল’- প্রাক্তনকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক! প্রাক্তনের দেওয়া যন্ত্রণা সামলে শার্লির সঙ্গে বিয়ে! সব নিয়ে অকপটে ফুলকির ‘রোহিত’

সোনাক্ষীর আরও বলেন, ‘ভরসাযোগ্য উৎস থেকে খবর সংগ্রহ করুন। আর সেটাই দেখুন। খবরের নামে এসব আবর্জনার স্তূপ থেকে নিজেদের দূরে রাখুন।’ তাঁর এই মন্তব্যে বহু নেটিজেন সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি পিআইবি ফ্যাক্ট চেক বিভাগও এক্স হ্যান্ডলে একটি তালিকা প্রকাশ করে ভুয়ো ভিডিও সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করেছে। সব মিলিয়ে, উত্তেজনার আবহে যখন আবেগে ভেসে যাচ্ছেন অনেকেই, তখন সংযম ও সচেতনতার বার্তাই যেন দিয়ে গেলেন সোনাক্ষী সিনহা।

Back to top button