অরিজিৎ সিং-এর পর এবার শ্রেয়া ঘোষালের বিরাট পদক্ষেপ! ‘কিছুতেই আর গাইবেন না…’, গান বাছাইয়ে নতুন সিদ্ধান্ত! কি জানালেন গায়িকা?

গান দিয়ে তিনি বহু বছর ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন এই শিল্পী। কিছুদিন আগে জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। সেই ঘোষণার পর অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। এরই মাঝে শ্রেয়াও জানালেন, ভবিষ্যতে তিনি গান নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে চান। বিশেষ করে এমন কিছু গান রয়েছে যা তিনি আর গাইতে চান না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।

বিভিন্ন ধরনের গানে নিজের অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। প্রেম, বিচ্ছেদ, আবেগ কিংবা আনন্দ সব ধরনের অনুভূতির গানেই তাঁর কণ্ঠ আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। ‘মেরে ঢোলনা’ থেকে শুরু করে ‘চিকনি চামেলি’ পর্যন্ত একাধিক জনপ্রিয় গানে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর ‘চিকনি চামেলি’র মতো গান গাইবেন না। যদিও এই গান গাওয়ার সময় তিনি অস্বস্তিতে পড়েছিলেন এমনটা নয়। বরং তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পী হিসেবে তাঁর ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বদলেছে। তাই এখন তিনি গান বাছাই করার ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে চান।

শ্রেয়ার মতে, ‘চিকনি চামেলি’ ধরনের অনেক গানে মহিলাদের এক ধরনের অবজেক্টিফিকেশন করা হয়। অর্থাৎ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যা নারীদের প্রতি সম্মানজনক নয়। এই বিষয়টি এখন তাঁর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন গানের থেকে দূরে থাকতে চান তিনি। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তাঁর এক বন্ধু একটি গান লিখেছিলেন যেখানে একটি লাইনে বলা হয়েছিল ‘আমায় চিকেন বানিয়ে খেয়ে নাও’। সেই কথাগুলো শ্রেয়ার মোটেও ভালো লাগেনি। তিনি মনে করেন, নারীদের নিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করা ঠিক নয়। তাই বন্ধুর অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই গানটি গাইতে রাজি হননি।

তবে ‘চিকনি চামেলি’ গানটিকে তিনি পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখেন না। শ্রেয়ার মতে, গানটি নিছক মজার হলেও তার মধ্যে একটি আলাদা শিল্পসৌন্দর্য রয়েছে। সেই সময় গানটি গাওয়ার সময় তিনি এতটা পরিণত ছিলেন না বলেই মনে করেন। তাঁর কথায়, তখন তিনি খুব বেশি ভাবেননি গানের কথাগুলো ঠিক কী ধরনের বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর ভাবনা বদলেছে। এখন তিনি উপলব্ধি করেন যে একটি গানের কথা মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং সেই দায় শিল্পীরও থাকে।

আরও পড়ুনঃ টিআরপি ধাক্কায় স্লট বদল! ৭টার সময় হারাল ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’! প্রাইম টাইমে উঠছে ‘কুসুম’! কি অবস্থা পরিণীতার? দেখে নিন আগাম টিআরপি তালিকা!

এখনকার দিনে গান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই অনেক বেশি সচেতন শ্রেয়া ঘোষাল। তাঁর মতে, যদি কোনও গানের কথায় আপত্তিকর ইঙ্গিত থাকে, তবে সেই গান শিশুদের সামনে গাওয়া বা পরিবেশন করা ঠিক নয়। কারণ গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের প্রতিফলনও বটে। তাই ভবিষ্যতে এমন গানই তিনি গাইতে চান যা শ্রোতাদের আনন্দ দেবে এবং একই সঙ্গে সম্মানজনক বার্তা বহন করবে। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সংগীতপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর এমন ভাবনা নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

Back to top button