র্যাম্পের রানী থেকে ফুটপাতের ভিখারিণী, গায়ে ভর্তি ঘা! সেখানেই জন্ম নিয়েছে পোকা! জনপ্রিয় সুন্দরী সুপারমডেলের আজ এমন দশা কেন? কি হয়েছিল তাঁর সঙ্গে?

মধ্যগগনে থাকা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নব্বইয়ের দশকের ফ্যাশন দুনিয়ায় তিনি ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। র্যাম্পে তাঁর হাঁটা মানেই ছিল রাজকীয় উপস্থিতি। সেই সময়কার প্রথম সারির ডিজাইনার থেকে শুরু করে নামজাদা ফোটোগ্রাফার সবারই প্রথম পছন্দ ছিলেন তিনি। অদ্ভুত এক চার্ম ছিল তাঁর চোখেমুখে, যার কারণে বলিউডের অলিগলি থেকে শুরু করে ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তাঁকে তুলনা করা হতো ‘মাধুরী দীক্ষিতের’ সাথে। সুস্মিতা সেনদের মতো তারকাদের সমসাময়িক এই মডেলের কাছে তখন সাফল্যের সব দুয়ার খোলা ছিল।
পতনের শুরু ও গ্ল্যামারের সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। গ্ল্যামার জগতের প্রবল চাপ, একাকীত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন তাঁকে ঠেলে দেয় মাদকের নীল নেশায়। ধীরে ধীরে পেশাদার জগত থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। খ্যাতির আলো ফিকে হতে শুরু করে এবং মাদকে আসক্ত হয়ে তিনি তাঁর মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকেন। যে জগত তাঁকে মাথায় তুলে রেখেছিল, সেই জগতই খুব দ্রুত তাঁকে ছুড়ে ফেলে দেয় বিস্মৃতির অতলে।
দিল্লির ফুটপাতে এক বীভৎস পরিণতী ২০০৭ সালের এক সকালে দিল্লির হৌজ খাস এলাকার বাসিন্দারা এক জীর্ণ মহিলাকে মন্দিরের বাইরে ভিক্ষে করতে দেখেন। এক সময়ের লাস্যময়ী সেই রূপ তখন কঙ্কালসার দেহে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় স্নান না করা এবং রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে থাকার ফলে তাঁর সারা শরীরে তৈরি হয়েছিল গভীর ক্ষত ও ঘা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, সেই জ্যান্ত ঘায়ে পোকা পর্যন্ত জন্ম নিয়েছিল। সমাজের কাছে তিনি তখন শুধুই একজন নোংরা, মানসিক ভারসাম্যহীন ভিখারিণী, যার অতীত কারো কল্পনাতেও ছিল না।
পরিচয় প্রকাশ ও সমাজের চরম আঘাত সাধারণ মানুষের কাছে তিনি তখন এক আতঙ্ক বা করুণার পাত্র। কিন্তু যখন তাঁর পরিচয় জানাজানি হলো, তখন গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। জানা গেল, এই জীর্ণ দশাগ্রস্ত নারী আর কেউ নন, একসময়ের টপ মডেল গীতাঞ্জলি নাগপাল। যে শরীরে একসময় দামী ডিজাইনার পোশাক শোভা পেত, সেই শরীর তখন পচনশীল ঘায়ে ঢাকা। গ্ল্যামার এবং দারিদ্রের এই চরম বৈপরীত্য সমাজের এক কঠিন বাস্তবকে সামনে নিয়ে এসেছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘অভিনেতাদের অহংকারী হওয়া দরকার…’ ‘রিল করতে ব্যস্ত থাকলে অভিনয় শিখবে কখন?’ বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সুদীপা বসু!
উদ্ধারের লড়াই ও ট্র্যাজিক উপসংহার দিল্লির মহিলা কমিশন তাঁকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে পাঠায়, তখন চিকিৎসকরা জানান তিনি কেবল মাদকাসক্ত নন, বরং সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁর শরীরের ক্ষত বা পোকা পরিষ্কার করা সম্ভব হলেও মনের ক্ষতগুলো থেকে গিয়েছিল অমলিন। রাজপ্রাসাদ থেকে রাস্তার ভিখারি এটি চিরকাল বিনোদন জগতের এক অভিশপ্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা এবং সঠিক সময়ের সাহায্যের অভাব একজন মানুষকে কতটা মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

