‘মা-বাবা-বোনকে হ’ত্যা…’ ২০তম জন্মদিনেই সব শেষ! শ্বাস রোধ করা গুলির আওয়াজ! মুহূর্তে বদলে গিয়েছিল এই তরুণ অভিনেতার জীবন!

জন্মদিন সাধারণত আনন্দ আর উদযাপনের দিন। কিন্তু এক তরুণের জীবনে ২০তম জন্মদিন হয়ে ওঠে আজীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর স্মৃতি। সেদিন রাতেই তাঁর চোখের সামনে ঘটে যায় এমন এক রক্তাক্ত ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেয় তাঁর পরিবারের তিনজনকে। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তবে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। সেই ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে পরে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়।
পরিবারটি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত হলেও, ঘরের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরিবারের কর্তার কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই তীব্র ঝগড়া হতো। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছিল যে একসময় স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেখানেও মদ্যপ অবস্থায় পৌঁছে গিয়ে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং পরে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
এর কিছুদিন পর আসে সেই ভয়াবহ রাত। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ করে ওই তরুণ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির ওপরতলায় ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে নিচে ছুটে এসে তিনি দেখেন, পরিবারের দুই সদস্যকে গুলি করা হয়েছে। এরপর তাঁর দিকেও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলি তাঁর ঘাড়ে লাগে, তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে না লাগায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকেও গুলি করেন বলে জানা যায়।
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বাবা, মা ও বোনকে হারিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন ওই তরুণ। আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের পাশাপাশি নিজের কেরিয়ারও নতুন করে গড়তে হবে। পরে এক ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান, কারণ প্রথমে নির্বাচিত অভিনেতা সেই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ছবির মাধ্যমেই তিনি দর্শকদের নজরে আসেন। এরপর আরও একাধিক ছবি, টেলিভিশন, প্রযোজনা ও পরিচালনার কাজের সঙ্গে যুক্ত হন।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাদের তো কোন সন্তান নেই…’ ১৯ বছর বয়সে বিয়ে! স্বামীর অসুস্থতায় নিয়েছিলেন বিরতি! শুটিং ফ্লোরে দিন কাটলেও মন পড়ে থাকত বাড়িতে! স্বামীর জন্য স্ত্রীর আত্মত্যাগ! সাফল্য থেকে আক্ষেপ, সব নিয়ে অকপটে লিলি চক্রবর্তী?
এই ঘটনাটি ছিল বলিউড অভিনেতা কমল সদনার জীবনের। তিনি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রিজ সদনা এবং অভিনেত্রী সায়েদা খানের ছেলে। পরে তিনি মেকআপ আর্টিস্ট লিসা জনকে বিয়ে করেন এবং দুই সন্তানের বাবা হন। নিজের প্রয়াত বোনের স্মৃতিতে মেয়ের নামও রাখেন নম্রতা। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর জীবনের এই ঘটনা এখনও বলিউডের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে মনে করা হয়।

