‘প্রযোজোকরা ফোন করে আমায়…’ ‘দয়া করে খুব বেশি ব্যবহার করবেন না…’ বিরল শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন অলকা ইয়াগনিক! দর্শকদের কিসের সাবধানবাণী দিলেন গায়িকা?

প্রখ্যাত গায়িকা অলকা ইয়াগনিক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি একটি বিরল ধরনের শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন, যার নাম সেন্সরিনিউরাল নার্ভ হিয়ারিং লস। এই রোগের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও তিনি সেই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি তিনি, তবে এবার নিজের অবস্থার কথা খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন।
এই অসুস্থতার প্রভাব পড়েছে তাঁর কাজের ক্ষেত্রেও। অলকা জানিয়েছেন, সুরকাররা এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং নতুন গানের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি সেসব কাজ গ্রহণ করতে পারছেন না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এখন নতুন কিছু করার মতো অবস্থায় তিনি নেই। ফলে আপাতত সংগীত জগৎ থেকে কিছুটা দূরেই থাকছেন তিনি, যা তাঁর অনুরাগীদের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশার খবর।
শেষবার তাঁকে শোনা গিয়েছিল ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবিতে, যেখানে তিনি এ আর রহমানের সুরে একটি গান গেয়েছিলেন। সেই কাজটিই আপাতত তাঁর সাম্প্রতিকতম সংগীত পরিবেশনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। একই বছরে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি। এই সম্মান পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জীবনে যা আসে, তিনি তা গ্রহণ করেন এবং আলাদা করে কিছু প্রত্যাশা করেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই অলকা প্রথম এই অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, একবার বিমানে ভ্রমণের পর হঠাৎই অনুভব করেন যে তিনি ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছেন না। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে জানা যায়, এটি একটি বিরল সমস্যা, যা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং তিনি পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুনঃ মহাপ্রভুর ভোগ প্রসাদ খেয়েই নীল হয়ে গেল গলা! ঘোর সংকটে হাজার হাজার ভক্তের জীবন! দিতি কি পারবেন এই মহাবিপদ রুখতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সেই সময় তিনি নিজের অনুরাগীদের কাছে প্রার্থনার আবেদনও জানান এবং ধীরে ধীরে এই অবস্থাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি সকলকে সতর্ক করেন, খুব জোরে গান শোনা বা দীর্ঘসময় হেডফোন ব্যবহার করা শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অন্যদের সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন, যাতে কেউ একই সমস্যার মুখোমুখি না হন।

