আরজিকর কান্ড নিয়ে তৎপর অপর্ণা সেন! কি বললেন সামাজিক মাধ্যমে?

বর্তমানে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে নক্কারজনক ঘটনা নিয়েই তোলপাড় গোটা বাংলা। এক কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের নৃশংসভাবে ধ’র্ষণ হ’ত্যার ঘটনা শিহরিত করেছে তুলেছে গোটা বাংলাকে। ঘটনাটি ঘটেছে একেবারে হাসপাতালের সেমিনার হলের ভেতর। বাংলার এক মেধাবী ছাত্রী চলে গেলেন চিরদিনের জন্য। আর সেই সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছে একাধিক। সামাজিক মাধ্যম থেকে সংবাদ মাধ্যমে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ধিক্কার জানাচ্ছেন সকলেই।
এই ঘটনাটি যেন নাড়িয়ে দিয়েছে সমাজের ভিত। সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে একাধিক। কর্মরত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কিভাবে ঘটে গেল এরূপ মর্মান্তিক ঘটনা? পশ্চিমবঙ্গে কি নারীদের কোন সুরক্ষা নেই? কর্মক্ষেত্রে গিয়েও কি সুরক্ষিত নন মহিলারা? আরজিকরের হাসপাতালের মতো একটি সরকারি হাসপাতালে কিভাবে ঘটল এই ঘটনা? পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে পুলিশি তদন্তে ওপর। কেন স্বচ্ছ তদন্ত হচ্ছে না এই কেসের? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
কী বলেছেন শ্রীজাত?
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি কলম ধরেছিলেন শ্রীজাত। নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তিনি লিখেছিলেন “যো’নি মানে তো চিরে রাখা রাস্তাই একটা, একটা সরু গলিপথ। কিন্তু সেটুকুতে মন উঠল না তোমার। তুমি সেই রাস্তায় কাটারি চালিয়ে আরও বড় রাস্তা বানালে। চেরাকে সোজা ফালা করে দিলে। আরও বড় জায়গা তৈরি হল। তুমি র’ক্ত মাং’স কাদার মধ্যে দিয়ে হাত চালিয়ে ভেতর থেকে বার করে আনলে না’ড়িভুড়ি। বাইরে পাহাড় তৈরি হল ছোটখাটো। আর ভেতরে জায়গা। অনেকখানি। এইবার তুমি যো’নির মধ্যে রড ঢো’কালে…।”
কী বলেছেন অপর্ণা সেন?
এবার এই প্রসঙ্গে মৌনতা ভঙ্গ করলেন অপর্ণা সেন। অভিনেত্রী বলেছেন “যে নৃশংস ধ’র্ষণ আর হত্যার ঘটনা ঘটল সেটা খবরে দেখে পড়ে প্রথমেই যেন স্তব্ধ হয়ে যেতে হয় যেন এরপর আর কিছু বলার নেই। কিন্তু বলার অনেক কিছু তারপরও থেকে যায়। অন্যান্য নাগরিকদের মতো আমারও প্রশ্ন যে কেন মেয়েদের এভাবে আরোখিতভাবে কাজ করে যেতে হবে সর্বত্র। কেন যথেষ্ট সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে না। এই অবহেলার যে দায় সেটা কি সরকার নেবেন? সরকারকেই নিতে হবে কারণ এটা সরকারি হাসপাতাল যেখানে ঘটনাটা ঘটেছিল।”
আরও পড়ুন: সোহিনীর কুমন্ত্রণায় ফের রাইকে অবিশ্বাস করল অনির্বাণ! সন্দেহের বসে চরম ভুল করে বসলো সে!
অভিনেত্রী আরও বলেছেন “ছাত্রছাত্রীদের যে দাবি আমি তার সঙ্গে সর্বতোভাবে এক মত। সম্পূর্ণভাবে তাদের সমর্থন করছি। সরকার অবলম্বনে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। এবং দোষীকে দৃষ্টান্ত মূলক কঠিন শাস্তি দিক। আর সেই সঙ্গে আরও একটি তদন্ত হওয়ায় উচিত। যেটা অতনু ভট্ট তাঁর দেওয়ালে লিখেছেন এবং আমি তার সঙ্গে একমত যে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। যেমন কেন ধৃতা প্রথমেই পেয়ে পুলিশ বললেন এটা আত্মহত্যার ঘটনা। কিসের ভিত্তিতে এই ঘোষণা সেটা জানার অধিকার আমাদের আছে। দ্বিতীয়ত, কেন পুলিশ ধৃতার বাড়িতে ফোন করে বললেন এটা আত্মহত্যার ঘটনা? কার নির্দেশে এটা ঘটল? তাছাড়া কেন পুলিশ তড়িঘড়ি পোস্টমোর্ডাম করার জন্য তৎপর হয়ে উঠল? যে হাসপাতালে ঘটেছে সেই হাসপাতালেই কেন পোস্টমোর্ডামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এই প্রশ্নগুলি উত্তর জানার আমাদের অধিকার আছে এবং সরকারের কাছে আমাদের দাবি এই ঘটনার তদন্ত হোক এবং মেয়েদের সুরক্ষার ব্যবস্থা হোক যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।”

