শেষ বয়সে ভুগেছিলেন অর্থ কষ্টে! দুয়ারে দুয়ারে চাইতে হয়েছে ভিক্ষা! যোগ্য সম্মান পাননি অভিনেতা কালী বন্দ্যোপাধ্যায়

৮০ দশকে টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন তিনি। মৃণাল সেন, তপন সিনহা, অঞ্জন চৌধুরী থেকে শুরু করে প্রত্যেকের খুব প্রিয় ছিলেন অভিনেতা। তিনি আর কেউ নন সকলের প্রিয় কালী বন্দ্যোপাধ্যায় (Kali Banerjee)। অভিনয় জগতে আসার আগে বহু মোটা অংকের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেতা, কিন্তু কোনদিনই চাকরিতে মন বসাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অভিনয় জগতেই নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ বয়সে এসে অভিনেতা কে আর্থিক কষ্টে ভুগতে হয়েছিল। যার কারণে পরিচালকদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে কাজ চাইতেও হয়।
হিরণ্ময় সেনের হাত ধরে ‘বার্মার পথে’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯২১ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার কালীঘাটে জন্ম হয় অভিনেতার। অভিনয় ছাড়াও দারুন ফুটবল খেলতেন অভিনেতা। পড়াশুনার থেকেও ফুটবল খেলার প্রতিবেশী বেশী ঝোঁক ছিল অভিনেতার। বাড়ি থেকে লুকিয়ে অনেক ফুটবল ক্লাবের হয় খেলেছেন অভিনেতা। গোষ্ঠ পালের মত বড় প্লেয়ারের হাত থেকে পেয়েছেন পুরস্কার। বাগবাজারে মাসির বাড়িতে যাত্রা দেখতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগে তৈরি হয় তার। এরপরে থিয়েটার থেকে গণনাট্য আন্দোলনে যোগ দেন।
বর্মার পথে সিনেমায় মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখলেও নীল আকাশের নিচে, অযান্ত্রিক, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, বাদশা, ডাক হরকরা, পরশপাথর, বাড়ী থেকে পালিয়ে, পুতুল নাচের ইতিকথা, নাগরিক ইত্যাদি ছবিতে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। প্রতিটি ছবিতেই তার অভিনয় ছিল সাবলীল এবং নিখুঁত। অসাধারণ অভিনয়ের পরেও শেষ জীবনে অভিনেতাকে কাজের জন্য পরিচালকদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়েছে। অভিনয় করতে করতেই গণনাট্য আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরেই অভিনেতার আলাপ হয় বামপন্থী নেতা অবনী লাহিড়ীর বোন প্রীতির সঙ্গে। ১৯৫১ সালে দুজনে ভালোবেসে বিয়ে করেন।
বাংলা ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় হিন্দি ছবি বাবুর্চিতে অভিনয় করেছেন। চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র ও মঞ্চ শিল্পীদের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এরপর প্রান্তরেখা, সঙ্গিনী, দেবী চৌধরাণী, সঙ্গিনী, উমনো ও ঝুমনো, নতুন সূর্য, সংসার সীমান্তে, বেহুলা লখিন্দর, এই পৃথিবী পান্থনিবাস, প্রতিমা, জয় মা তারা, তুষার তীর্থ অমরনাথ, দেবদাস, ঘটকালি এর মতন ছবিতেও তার অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পর্ণার সামনে চলে এল তার অতীতের আসল সত্যি! পর্ণার প্রশ্নের মুখোমুখি সৃজন!
শেষ বয়সে এসে এমনও চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে যা দেখে সত্যি তার প্রতি করুণা হয়েছে অসংখ্য দর্শকদের। সেই সময় তার মতো অভিনেতাকে সম্মান দেওয়ার জন্য কোন পরিচালিত ছিলেন না। শেষ বয়সে এসে অঞ্জন চৌধুরীর কাছে কাজ চাইতে এসেছিলেন তিনি। অঞ্জন চৌধুরী তার কথা রেখেছিলেন গুরুদক্ষিণা, ছোট বউ, শত্রু, হীরক জয়ন্তীর মতন ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। তবুও নিজের জীবনের শেষদিন অব্দি অভিনয় করে গিয়েছেন। এরপর তার শেষ ছবি তান্ত্রিকে অভিনয় করতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে অভিনয় করতে গিয়ে নিউমোনিয়া হয়। ১৯৯৩ সালের ৫ই জুলাই সকলকে ছেড়ে পরলোক গমন করেন অভিনেতা।

