জ়ুবিন গার্গের জন্মদিনে আবেগের ঢেউ! গায়কের অনুপস্থিতিতে কীভাবে পালিত হচ্ছে তাঁর জন্ম দিবস?

গত সেপ্টেম্বরেই অকালে চলে গেলেন অসমের প্রিয় শিল্পী জ়ুবিন গার্গ। তাঁর মৃত্যু ঘিরে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। নানা বিতর্ক, তদন্ত চলতে থাকা—সবকিছুর মাঝেও মঙ্গলবার গায়কের ৫৪তম জন্মদিনে আবেগে ভেসে উঠল গোটা গুয়াহাটি। অনুরাগীদের কাছে এ দিন শুধু স্মরণ নয়, একরাশ ভালোবাসায় শিল্পীকে আবারও ফিরে পাওয়ার চেষ্টা।
মধ্যরাত থেকেই জ়ুবিনের গুয়াহাটি আবাসের সামনে জমতে শুরু করেন শত শত ভক্ত। হাতে বড় বড় চকোলেট কেক, সঙ্গে তাঁর ছবি। রাত পেরিয়ে জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কেটে উদ্যাপন করেন তাঁরা। পথচারীদের মধ্যে কেক বিতরণের মুহূর্তও চোখে জল এনে দেয় অনেকের। মনে হচ্ছিল, তিনি নেই—তবুও যেন প্রতিটি সুরের মধ্যেই জ়ুবিন জীবিত।
বাড়ির ভিতরেও ছিল আলাদা সাজসজ্জা। নীল ও সাদা বেলুনে সাজানো লোহার দরজা, সামনে বিছানো লাল গালিচা—সবই যেন গায়ককে সম্মান জানানোর নিঃশব্দ প্রয়াস। স্ত্রী গরিমা শঈকীয়া নিজেও এই অনুষ্ঠানে ভক্তদের পাশে দাঁড়ান। আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, “এই জন্মদিন থেকে আগামী প্রতিটা জন্মদিনে আমরা নতুন গল্প শুরু করব। যেখানে থেকো ভালো থেকো।”
শুধু বাড়িমুখী ভক্তই নয়, অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজন করা হয় বিশেষ কর্মসূচি। কোথাও রক্তদান শিবির, কোথাও আবার স্কুলে স্কুলে শিশুদের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন। রাজ্যের মানুষ যেন আরেকবার প্রমাণ করলেন—অসমের হৃদয়ে জ়ুবিন আজও অমর।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার শিরদাঁড়াটা ভাঙা…ভাঙা জিনিসের বিক্রি নেই’, ‘আরজিকর নিয়ে কথা বলেছিলাম তাই কাজ নেই!’- বিনোদন জগৎ থেকে বহু দূরে অভিনেতা! হাতে নেই কাজ! জীবন নিয়ে অকপটে প্রদীপ ধর!
তবে এই আবেগের পাশাপাশি রয়ে গিয়েছে প্রশ্নও। সিঙ্গাপুর পুলিশ বলেছে, জ়ুবিনের মৃত্যুতে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। কিন্তু অনুরাগী এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই দাবি ঘিরে ফের রাস্তায় নেমেছেন মানুষ, চলছে বিচার চাওয়ার আন্দোলন। এর মাঝেই মুক্তি পেয়েছে জ়ুবিন অভিনীত শেষ ছবি ‘রৈ রৈ বিনালে’, যা ইতিমধ্যেই অসমের সিনেমা জগতে নতুন ব্যবসায়িক ইতিহাস গড়েছে। শিল্পীর শেষ কাজই আজ তাঁর অমরত্বের সাক্ষী হয়ে উঠেছে।

